তেঁতুলের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা

প্রিয় পাঠক আপনাদের অনেকের জানা নেই তেঁতুলের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বা এর কাজ কী।তাই আপনার ও যদি এই প্রশ্ন থাকে তাহলে আমার এই আমার আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ুন। কেননা আমার আজকের এই আর্টিকেল এর মূল বিষয় হলো তেঁতুলের বিচির উপকার ও অপকার সম্পর্কে। তো আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট না করে চলুন শুরু করা যাক তেঁতুলের বিচির উপকার ও অপকার সম্পর্কে।

তেঁতুলের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা

আমার এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি আরো জানতে পারবেন তেঁতুলের বিচির উপকার ও অপকার সম্পর্কে আজকের এই বিস্তারিত আলোচনা। তাই শেষ পড়ার অনুরোধ রইলো।

পেজ সূচিপত্র ঃ  তেঁতুলের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা  বিস্তারিত

  • তেঁতুলের বিভিন্ন প্রকার নাম
  • কী কাজে লাগে তেঁতুলের বিচি
  • তেঁতুলের বিচি খেলে কী হয়
  • তেঁতুলের বিচির উপকারিতা
  •  তেঁতুলের বিচির অপকারিতা
  • শেষ কথা –  তেঁতুলের বিচির উপকারিতা ও অপকারিতা 

তেঁতুলের পরিচিতি

বৈজ্ঞানিক তেঁতুল ইন্ডিকা নামে পরিচিতি, তেঁতুল একটি লেবুজাতীয় ফল। আবার এটা সিমের ন্যায় দেখতে। এই গুটি গুলি বীজে ভরা এবং একটি ফাইবার সজ্জা দ্বারা আবৃত থাকে। তেঁতুল যখন কাচা আবস্থায় থাকে তখন এর গায়ের রং সবুজ থাকে এবং এটা খেতে টক জাতীয় হয়। এটি পাকার সাথে সাথে সজ্জটি মতো হয়ে পেস্টের মতো বের হয় এবং এর স্বাদ মিষ্টি-টক হয়ে যায়।
মিষ্টি ও টক যুক্ত তেঁতুল আমাদের স্বাস্থোর পক্ষে অনেক উপকার। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তেঁতুল একটি জনপ্রিয় ফল।আচার জাতীয় ফল হিসেবে রয়েছে তেঁতুল এর রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। আর আচার মানেই তো জিভে জল চলে আসার কথা।এছাড়া ও বিভিন্ন ধরনের খাওয়ারের সাথে তেঁতুল এর ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
তবে আমাদের দেশে তেঁতুল এর থেকে তেঁতুরের এর বিচির চাহিদা বেশি। কারন বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৮৫-৯০ মেট্রিক টন তেঁতুরের বিচি আমদানি করা হয়েছে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন তেঁতুলের পরিচিতি সম্পর্কে বিস্তারিত।

তেঁতুলের বিভিন্ন প্রকার নাম

  • বাংলা বা স্থানীয় নাম ঃ তেঁতুল
  • ইউনানী নাম           ঃ তামার হিন্দ
  • আয়ুর্বেদিক নাম      ঃ অমলী ও ঈমরী

কী কাজে লাগে তেঁতুলের বিচি

আমাদের দেশে মূলত পাঠশিল্প ও কাপড়ের মিলে সুতা রং করার কাজে এই তেঁতুলের বিচি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তেঁতুলের বিচি ব্যবহার করার ফলে সুতার রং দীর্ঘ দিন টেকসই হয়। এছাড়া ও মশার কয়েল তৈরি করার কাজে তেঁতুলের বিচি ব্যবহার রয়েছে বিপুল পরিমানে।এছাড়া ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ও রয়েছে তেঁতুলের বিচির অনেক অবদান।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইউনানি, আয়ুবের্দ, হোমিও ও অ্যালোকপ্যাথিক ঔষধ তৈরিতে তেঁতুলের বিচি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শুষ্ক চোখের চিকিৎসায় যে ড্রপ তৈরি করা হয়ে হয় তাতে তেঁতুলের বিচি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও পাকস্থলির গোলযোগ, লিভার, গল-ব্লাডের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্যে করে এই বিচি। গর্ভকালীন বমিভাব ও মাথা ঘোরার সমস্যায় তেঁতুলের বিচির শরবত শরীরের জনস্য বেশ উপকারী।

তেঁতুলের বীজ খেলে কী হয়

তেঁতুলের বীজ পাউডার খেলে বিভিন্ন রকম উপকার রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপকারী গুলো নিয়ে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।
  • বলকারক
  • শরীরের দূর্বলতা দূর করে
  • বীর্জের উৎপাদন
  • যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে
  • অতিরিক্ত স্বপ্ন দোষ বন্ধ করে
  • মহিলাদের জরায়ুর শক্তিবর্ধন করে

তেঁতুলের বীজের উপকারিতা

ওজন কমাতে সাহায্যে করে-আপনি যদি আপনার ওজন নিয়ন্তন করতে চান বা ওজন কমাতে চান তাহলে আপনার আবশ্যই খাওয়া শেষ করে একটি করে বীজ খাওয়া দরকার। এই নিয়মে বীজ সেবন করলে দুটি উপকার পাবেন। প্রথমত এটি আাপনার ক্ষুধা কমিয়ে দিবে এবং সাথে আপনার মেটাবলি জমকে ত্বরাণিত করে। এই দুটি এক সঙ্গে আপনার ওজন কমাতে সাহায্যে করে।
ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী- ভাজা তেঁতুলের ভিটামিন-E সমৃদ্ধ হয়ে থাকে। যা আমাদের ত্বক ও চুলের জন্য উভয় উপযোগী। প্রকৃত পক্ষে তেঁতুলের বিজে পর্যাপ্ত পরিমান ওমেগা এসিড এবং ফ্রি র‌্যাডিকেল থাকে। যা আমাদের চুল এবং ত্বকের গুণগত মান উন্নত করতে সহায়তা করে। এগুলো কেবল চুলের গঠন উন্নত করে না বরং নতুন করে প্রতিফলক হতে উৎসাহিত করে।ব্রেন বুস্টার-তেঁতুলের বীজে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড অনেক বেশি পরিমানে থাকে।
যা আমাদের মস্তিষ্কের কোষ গুলিকে খুব অল্প সময়ে শক্তিশালী হতে সাহায্যে করে। এটি আপনার বোঝার ও চিন্তার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।তেঁতুল বীজ চূর্ণ খাওয়ার উপকারিতা- আপনার যদি কোলেস্টেরল বেশি থাকে, ভাজা তেঁতুলের বীজ সকালে এক চামচ এবং সন্ধায় এক চামচ খাওয়া উচিত।তাছাড়া এটি আপনার রক্তচাপ ঠিক রাখবে এবং হৃদরোগ এর ঝুকি কমাবে।

তেঁতুলের বীজের অপকারিতা

তেঁতুলের প্রচুর পুষ্টি গুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকলে ও এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও রয়েছে। প্রচুর পরিমানে তেঁতুল নিয়মিত সেবন করলে আমাদের সিরাম গুকোজের মাত্রায় মারাক্তক হ্রাস ঘটাতে পারে ফলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়।তেঁতুর রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং অ্যাসপিরিন এবং আ্যান্টি-প্ল্যাটলেট ঔষধের মতো নিদিষ্ট অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ঔষধের সাথে গ্রহন করলে এটি অত্যান্ত বিপদজনক হতে পারে।
এ্যালার্জি অতি সংবেদনশীল তেঁতুলের সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলোর মধ্যে একটি।অনেক লোক আছে যারা এই উপাদন গুলির প্রতি সংবেদনশীল এবং ফুসফুস,চুলকানি,ফোলাভাব,হুল ফোটানো,মাথা ব্যাথা,বমি হওয়া,শ্বাসকষ্ট ইত্যাদির মতো বেশ কয়েকটি লক্ষন দেখা যায়।গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত তেঁতুল খাওয়া গর্ভবতী মহিলার জন্য অনেক ক্ষতি করে।
তাই গর্ভবতী থাকা অবস্থায় পরিমিত পরিমাণ এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তারপর তেঁতুল খাওয়া উচিত। বাজারে এমন অনেক ঔষধ আছে যে গুলোর সাথে আমাদের তেঁতুল খাওয়া উচিত নয়। অতএব, শুরুতর ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনযায়ী তেঁতুল খাওয়া উচিত।

শেষ  কথা – তেঁতুলের বিচির কাজ কি

প্রিয় পাঠক আপনারা এতক্ষণ পড়ছিলেন তেঁতুলের বিচির কাজ কি তা নিয়ে বিস্তারিত। আশা করি আমার আজকের এই পোষ্টটি পড়ে আপনার উপকারে আসবে।আমার এই পোষ্টটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করতে পারেন।
আর যদি নতুন কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে চান তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জনানতে পারেন। এতক্ষণ আমার এই পোষ্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Comment