বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

বাসক পাতা (Basak Pata) হল এমন একটি ভেষজ উদ্ভিদ যার শুধুমাত্র পাতাই নয়, মূল, ফুল, এবং আরও নানা অংশ ওষুধ তৈরির কাজে লাগানো যায়।আষাঢ় শ্রাবণ মাসে এই গাছের ফুল ফোটে থাকে। বাসক পাতার গাছ উচ্চতায় তিন থেকে চার ফুট মতো হয় এবং ঘন গুল্মের মতো দেখতে হয়। থোকা থোকা ফুল হয় এবং বাদামের মতো দেখতে ফল হয়।

বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

চারা অবস্থায় যদিও বাসক পাতার গাছ দেখতে সবুজ থাকে, কিন্তু পরিণত গাছের কান্ডটি হালকা বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। আমাদের বসত বাড়ি আশেপাশের বাসক পাতা দেখা যায়। আমার এই আর্টিকেল আপনারা সম্পূর্ণ পরলে জানতে পাড়বেন বাসক পাতা কি, বাসক পাতা কোথায় জন্মে,কোন কোন রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে বাসক পাতা ব্যবহার করা হয় ও উপকার এবং অপপ্রকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করতে পারবেন। চলুন সময় নষ্ট না করে আর্টিকেল টা শুরু করা যাক। 

সূচিপত্র :বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

  • বাসক পাতা কি এবং কোথায় জন্মে 
  • বাসক পাতার ব্যবহার 
  • রোগ নিরাময়ে বাসক পাতার ব্যবহার 
  • বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা 

বাসক পাতা কি এবং কোথায় জন্মে

বাসক পাতা হলো এক ধরনের ঔষধি গুনাগুন সম্পূর্ণ উদ্ভিদ। গাছটি লম্বায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন কৃষি জমি আশেপাশের বাসক পাতা জন্মাতে দেখা যায়। যুগ থেকে বাসক পাতা ভেষজ গুনে গুণান্বিত কিন্তু সাম্প্রতিককালে বৈজ্ঞানিকভাবে বাসক পাতার ভেষজ গুনাগুন প্রমাণিত হয়েছে। বাসক পাতা শুধু পাতা নয় গাছের পুরো অংশ বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

বাসক পাতার ব্যবহার

বাসক পাতার নির্যাস, রস বা সিরাপ শ্লেষ্মা তরল করে নির্গমে সুবিধা করে দেয় বলে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসনালীর প্রদাহমূলক ব্যাধিতে বিশেষ উপকারী। পানির জীবাণু মুক্ত করতে, হাত-পা ফুলে গেলে, চামড়ার রং উজ্জ্বল করতে বাসক পাতা ব্যাবহার হয়।বাসক পাতার ব্যাবহার নিয়ে আলোচনা করলে সর্ব ১ম আসে ওষুধ তৈরির কাজে ব্যাবহার।ওষুধ তৈরি করতে তাজা এবং শুকনো দু’রকমের বাসক পাতার ব্যবহারই করা যায়।

বাসকের পাতায় ভ্যাসিসিন নামে একটি প্রাকৃতিক উপাদান থাকে এবং জরুরি কিছু এসেনশিয়াল অয়েলও থাকে যা বিভিন্ন ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যাবহার হয়। বাসক পাতায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলি বুকে জমে থাকা কফ গলিয়ে ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা থেকে আমাদের মুক্তি দেই। তা বাদে সর্দি কাশি উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি দমন করতে বাকস পাতা ব্যাবহার হয়ে থাকে। 

রোগ নিরাময়ে বাসক পাতার ব্যবহার

বাসক পাতা সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়ে থাকে মানব দেহের রোগ নিরাময়ের জন্য। মানবদেহে বিভিন্ন জটিল এবং গোপন রোগ বাসক পাতায় থাকা দেশ উপাদান দিয়ে আমায় করা হয় তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রোগ হলো :

 ১.কাশি কমাতে বাসক পাতা

আগেই যেমন বলা হল সর্দি কাশি কমাতে বাসক পাতার ব্যবহার যদি বহু পুরনো সর্দি বা কাশির সমস্যা থাকে, সেক্ষেত্রে দু-চারটি বাসক পাতা খুব ভাল করে ধুয়ে বেটে নিয়ে সেই রস যদি নিয়মিত খাওয়া যায়, তাহলে কাশি উপশম হয়। এক্ষেত্রে জেনে রাখা ভাল যে বাসক পাতা (Basak Pata) প্রচন্ড তেতো হয়ে থাকে নিম পাতার মতো কাজেই এক চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ বাসক পাতার রস মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালিপেটে বেশ কয়েকদিন খেতে হবে। এরপর অবশ্যই এক/দুই গ্লাস পানি পান করবেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই কাশি ভালো হয়ে যাবে। 

২. যক্ষ্মা রোধে বাসক পাতা

বাসক পাতার ঔষধি গুণ গুলির মধ্যে একটি হল বাসক পাতা যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস রোগ সারাতে সাহায্য করে। বাসক পাতায় অ্যান্টি-মাইক্রোবাল উপাদান রয়েছে যা যক্ষ্মা সারাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ব্রঙ্কাইটিস ও হুপিং কাশির সমস্যা সমাধানেও বাসক পাতা ব্যাবহার হয়ে থাকে।

৩.জ্বর হলে বাসক পাতার ব্যাবহারের উপকার 

জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বাসক পাতা যথেষ্ট সাহায্য করে থাকে এছাড়াও অনেক সময় জ্বরের সঙ্গে সর্দি ও কাশির সমস্যা থাকে। সেক্ষেত্রে এক চামচ মধু, এক চামচ তুলসি পাতার রস এবং এক চামচ বাসক পাতার রস খেলে আনেক টা উপকার হয় ও আরাম পাওয়া যেতে পারে।

৪.গলা ব্যথা কমাতে

অনেকসময়ে নানা কারণে আমরা গলা ব্যথা আনুভব করে থাকি। তবে তখন যদি কষ্ট করে একটু বাসক পাতার রস খেয়ে নেন তাহলে উপকার হলা ব্যাথা আনেক টা কমে যায়। 

৫. রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে

মানব দেহে আতি গুরুত্বপূর্ন আপাদান হলো রক্ত। অনেকেরই মুখে ব্রণ হয় বা পেটে সমস্যা হয় অথবা নানারকম অ্যালারজির সমস্যা থাকে। এই সমস্যাগুলো বেশিরভাগ সময়েই তখন হয় যখন রক্ত পরিষ্কার থাকে না। বাসক পাতার (Bashok Pata) নিয়মিত সেবনে কিন্তু আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কার হয় এবং রক্তের ক্ষতিকর পর্দাধ নষ্ট করে দেই শুধু তাই নয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করতে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতেও সাহায্য করে থাকে।

৬. শ্বাসকষ্টে বাসক পাতা

বাসক পাতা কাশি, সর্দি, ব্রঙ্কাইটিস, হাপানি ইত্যাদি নিরাময় করতে সাহায্য করে। বাসক পাতার ঔষধি গুণ আমাদের শ্বাসনালী প্রশস্ত এবং পরিষ্কার রাখেতে সাহায্য করে যার ফলে শ্বাসকষ্ট কম হয় এবং ব্রঙ্কাইটিস ও হাপানি রোগীদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। হাপানির ওষুধ তৈরি করতেও অনেকসময়ে বাসক পাতার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আরো পড়ুনঃ হেলফিট খেলে কি ক্ষতি হয়

এ গুলো বাদেও বিভিন্ন কাজে বাসাক বা বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে বাসাক পাতা রশ ও কান্ড ইত্যাদি ব্যাবহার হয়ে থাকে। 

বাসক পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

সব কিছুরি উপকার ও অপকার দিক আছে তেমনি বাসাক পাতার উপকারের সাথে অপকার দিক আছে।
প্রয়োজনের তুলনায় যদি বাসক পাতার ব্যবহার বেশি করা হয় সেক্ষেত্রে বমি, বমিভাম, পেটের সমস্যা ইত্যাদি হয়ে থাকে।
গর্ভবতী মহিলাদের বাসক পাতা খেতে বারণ করা হয়। বাসক পাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।বাসক পাতা মধুমেহ রোগের উপশমে সাহায্য করে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বাসক পাতা খেয়ে ফেললে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় ফলে ডায়বেটিস রোগীদের শরীরে অস্বত্বি দেখা দেই

Leave a Comment