এন্টাসিড এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া – অতিরিক্ত এন্টাসিড খেলে কি হয়

গবেষণা বলছে বেনিয়মে অ্যান্টাসিড খাওয়ার কারনে হাট অ্যাটাকের পরিমান বাড়ছে। আমরা একটু মশলাদার, আতিরিক্ত তেল যুক্ত খাবার খাওযার পরে পেটে ও বুকের মাঝে হালকা ব্যাথা আনুভব করি ব্যাথার প্রতিকার স্বরূপ আমরা অ্যান্টাসিড খেয়ে যাকি এবং কিছু সময় এর মধ্যে ব্যাথা প্রশমিতো হয়ে যায় এবং আমরা আরাম পাই। শুধু আমরা নয় শতকরা ৮০% মানুষ ভাবে যে অ্যান্টাসিড খেলে ব্যাথা প্রশমিত হয় শারিরীক কোনো ক্ষতি হয় না কিন্তু আমাদের এই ধারনা টা পুরোপুরি ভুল এবং ভিওিহিন। গবেষণা বলছে অতিরক্তি অ্যান্টাসিড আমাদের হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেই ও আযু কমিয়ে দেই। 

antacid

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুলের মেডিসিন বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত অ্যান্টাসিড হাড় ভঙ্গুর করে দেয়, কিডনির অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে, এবং সবচেয়ে বড় কথা হৃদযন্ত্রের অবস্থা এতটাই খারাপ করে দেয় যে আমাদের হৃদরোগের পরিাম প্রচন্ড হারে বেড়ে যায়। আজকে আমার এই আর্টিক্যাল টি পুরোপুরি পড়লে আপনারা বিস্তারিতো জানতে পাড়বেন যে অিতরিক্ত অ্যান্টাসিড খেলে কি হয় এবং এন্টাসিড এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। চলুন সময় নষ্ট না করে আর্টিকেল টা শুরু করা যাক। 

সূচিপত্র : এন্টাসিড এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া – অতিরিক্ত এন্টাসিড খেলে কি হয় 

  • অ্যান্টাসিড কীভাবে কাজ করে
  • অতিরিক্ত অ্যান্টাসিড গ্রহণ করলে যা হয়
  • গর্ভবতী অবস্থায় অ্যান্টাসিড গ্রহণ করা কি নিরাপদ
  • শেষ কথা -কীভাবে এর সমাধান করা যায়

অ্যান্টাসিড কীভাবে কাজ করে

আমাদের পাকস্থলী এসিডিক প্রকৃতির হয়ে থাকে এর pH 3। আমরা যখন খাবার খাই তা ভেঙ্গে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট এ পরিণত হয়ে পাকস্থলীর এই pH মাত্রায়। এই হজম উপযোগী উপাদানগুলো (প্রিডাইজেস্টেড) পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে যায়, যেখানের pH মান হালকা ক্ষারীয় হয়ে থাকে এই পর্যায়ে পুষ্টি উপাদান রক্ত ও কোষে শোষিত হয়।

যদি আপনি অ্যান্টাসিড গ্রহণ করে থাকেন তাহলে এটি পাকস্থলীর এসিডকে নিরপেক্ষ করে দেয় এবং হজম প্রক্রিয়ায় কোন সাহায্য করে থাকে না। পাকস্থলীতে এসিড না থাকলে হজমকে ব্যাহত করে থাকে যার ফলে অপরিপাককৃৎ খাবার এবং বৃহত্তর কণা অন্ত্রে যায় এবং অন্ত্রের প্রাচীরের মধ্যে গর্তের সৃষ্টি করে। এর ফলে খাদ্য কণায় রক্ত মিশে যায় এবং লিকি গাট, IBS বা অটোইমিউন ডিজিজ সৃষ্টি হয় । 

তবে এমন কিছু উদাহরণ আছে  যেখানে পেট অ্যাসিডের উত্পাদনে ভারসাম্যহীনতা থাকে ও অস্বস্তির আনুভব হতে পারে। অ্যান্টাসিডগুলি এই ভারসাম্যহীনতা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং পাচনতন্ত্রের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে আনেক টা সাহায্য করে থাকে। 

গর্ভবতী অবস্থায় অ্যান্টাসিড গ্রহণ করা কি নিরাপদ

গর্ভাবস্থায় অম্বল এবং হজম সম্পর্কিত সমস্যাগুলি বেশ হয়ে থাকে। এতটাই সাধারণ যে ৮০% গর্ভবতী মহিলারা তাদের গর্ভাবস্থার কোন কোন সময় অম্বল বুকজ্বালার অভিযোগ করেন। এটি ঘটে কারণ প্লাসেন্টা প্রজেস্টেরনের নিঃসরণ শুরু করে যা হজম ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এছাড়াও এটি পেট এবং খাদ্যনালীর মধ্যে সংযোগকারী ভালভকে শিথিল করে যা অ্যাসিডকে উপরের দিকে ঠেলা দেয়।তা বাদেও শিশুরা পেটে প্রচুর জায়গা দখল থাকে যা পাকস্থলীর মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিতে চাপ পরে থাকে।

আরো পড়ুনঃ হেলফিট খেলে কি ক্ষতি হয়

এটি পেট থেকে অ্যাসিড মুখের দিকে ঠেলে দিতে পারে যার ফলে গর্ভাবস্থায় বেশি এসিডিটি  হয়ে পারে৷ অ্যান্টাসিড সিরাপ গর্ভাবস্থায় অম্বল এবং বুকজ্বালার বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক আরাম পাওয়া যায়  প্রকৃতপক্ষে, সিরাপগুলি অ্যান্টাসিড ট্যাবলেটগুলির চেয়ে বেশি ব্যাবহার করা হয়, কারণ গর্ভবতী হিসাবে সিরাপটি সহজেই দ্রবীভূত হতে পারে এবং দ্রুত কাজ করতে পারে। পাওয়া যায় এমন বেশিরভাগ অ্যান্টাসিড সেবন করা নিরাপদ।

তবে এমন কিছু রয়েছে যা বেশ বিপজ্জনক হতে পারে এবং এমনকি গর্ভপাতও হতে পারে। সব থেকে ভাল কাজ হল পরিমান মতো  অ্যান্টাসিড খাওয়া এবং কোনো আভিগতা পূর্ণ ডাক্তারে পরামর্শ অনুযায়ী।অ্যান্টাসিডগুলি বিভিন্ন পদার্থ যেমন ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট এবং অ্যালুমিনিয়াম দিয়৷ তৈরি হয়ে থাকে।তবে এগুলি শরীরে বিভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে।

আরো পড়ুনঃ prolong 30 এর কাজ কি

অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যে কোন কিছুই ক্ষতিকারক হতে পারে এবং অ্যান্টাসিডগুলিও এর ব্যতিক্রম নয়। অ্যান্টাসিডের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট কিছু সমস্যাগুলির মধ্যে রয়েছে বমি বমিভাব, রক্তাল্পতা এবং কিডনিতে পাথর যা শুধু গর্ভবতী অবস্থায় হয় একজন সাধারণ মানুষেরো এই স্যামসা গুলো হয়ে থাকে। কিন্তু যারা গর্ভবতী তাদের ক্ষতে ঝুকি টা বেশি থাকে।

এই জাতীয় অ্যান্টাসিডের সমস্যাটি হল এটি শরীরে জল জমার সমস্যার দিকে পরিচালিত করে, যা আসলে সোডিয়ামের বৈশিষ্ট্য আর সোডিয়াম হলো অ্যান্টাসিড তৈরির একটি গুরুত্ব পৃর্ণ উপাদান গর্ভাবস্থায়, মহিলাদের সর্বদা এমন সমস্যা দেখা দেয় যেগুলি জল জমার কারণে ফোলা গোড়ালি এবং ফোলা কব্জির মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়। এই অ্যান্টাসিডে থাকা সোডিয়াম কেবল এই সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তুলে। 

শেষ কথা – কীভাবে এর সমাধান করা যায়

এই সমস্যা মোকাবেলার একমাত্র উপায় টপাটপ অ্যান্টাসিড খাওযা যাবে না  এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। এছাড়াও লাইফস্টাইলের পরিবর্তন যেমন – খাদ্য খুব ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া উচিৎ যাতে ভালোভাবে হজম হয়। খালি পেটে, খাওয়ার সাথে বা খাওয়ার পরপর ফল খাবেন না, এর ফলে অনেক বেশি অ্যাসিডিক হয়ে থাকে।

শেষকথাঃ এন্টিফাঙ্গাল সাবান এর নাম কি জানুন

এছাড়াও স্ট্রেস অনুভব করলেই খাবেন না, এতে উচ্চমাত্রার করটিসোল নিঃসৃত হয় বলে অনেক বেশি অ্যাসিডিক অবস্থা তৈরি হয়। বেশি পরিমাণে পানি পান করুন কিন্তু খাওয়ার সময় বা খাওযার শেষে আধিক পানি পান করবেন না। আর এসিডটি স্যামসা হলে ওষধ না নিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে সমাধানে চেষ্টা করতে হবে যাবে বেশি পরিমানে অ্যান্টাসিট খাওযা না লাগে। 

Leave a Comment