অতি পুষ্টি কাকে বলে – অতি পুষ্টি লক্ষণ কি

অতি পুষ্টি বলতে আমরা বুঝি আমাদের শরীর অনুযায়ী অধিক পরিমান পুষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে দেহের মধ্যে যে অতিরিক্ত পুষ্টি উৎপাদান হয় এবং তা সঞ্চয় হয়ে থাকে তাকে আতি পুষ্টি বলা হয়।এক কথায় আমরা আতি পুষ্টি বলতে বুঝি, কোনো কারেনে শরীর যদি প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় তিন থেকে চার গুণ বেশি পুষ্টি উৎপাদান তাকে অতি পুষ্টি বলে।

অতি পুষ্টি কাকে বলে

অতি পুষ্টি আমাদের শরীর জন্য ক্ষতিকর। আজকে আমি অতি পুষ্টি কি এবং অতি পুষ্টি লক্ষণ গুলো কি কি সে সম্পর্ক আলোচনা করবো। আমার লেখাটি পুরোপুরি পড়লে আপনারা এ বিষয় সম্পর্কে  বিস্তারিত জানতে পারবেন। 

সূচিপত্র :অতি পুষ্টি কাকে বলে – অতি পুষ্টি লক্ষণ কি কি

  • অতিপুষ্টির শারীরিক লক্ষণ
  • অতিপুষ্টির প্রভাব 
  • অতি পুষ্টির কারন 
  • অতি পুষ্টির ক্ষতিকারক দিন 
  • শেষ কথা – অতি পুষ্টি থেকে বাঁচা উপায় 

অতিপুষ্টির শারীরিক লক্ষণ 

অতি পুষ্টি শারীরিক লক্ষণ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ওজন বৃদ্ধি। অত্যধিক ক্যালোরি খরচ শরীরে সঞ্চিত চর্বি জমার দিকে পরিচালিত করে থাকে ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ করার ফলে চর্বি জমতে থাকে যার ফলে ব্যক্তির আদর্শ ওজনের মাত্রা অতিক্রম করে। স্থূলতা একটি জটিল অবস্থা যা কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা, ডায়াবেটিস এবং জয়েন্টে ব্যথা সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত সোডিয়াম যুক্ত খাবার যেমন প্রক্রিয়াজাত করণ এবং পাসপোর্ট পানির ভারসাম্য ব্যাহত করতে পারে এবং রক্তচাপের মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে যা বৈজ্ঞানিক ভাষ হাইপারটেনশন নামেও পরিচিত। অতিরিক্ত পুষ্টির ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাএা বাড়িয়ে তুলে । স্যাচুটেড ও ট্রাস্ন ফ্যাট সমৃদ্ধ কোলেস্টেরলের মাএা বুদ্ধি করে যাকে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়ে থাকে।অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে আমাদের শরীরে মেদ চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যা আমাদের জয়েন্টগুলোর উপড় প্রভাব পড়ে।  

অতিপুষ্টির প্রভাব

অতি পুষ্টি আমাদের মানব দেহ কে বিভিন্ন ভাবে প্রবাহিতো করছে। অতিপুষ্টির ফলে মানব দেহে লক্ষনিয় প্রভাব গুলো হলো অতি পুষ্টির আন্যতম প্রভাব হলো আমাদের শরীরে ওজন বৃদ্ধি ফলে আমাদের শরীরের জয়েন গ্রুপের প্রভাব পড়ে এবং সামান্য আঘাতে জয়েনগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার প্রবণতা থাকে।

অত্যধিক পুষ্টি হৃদরোগের বিকাশে অবদান রাখে, করোনারি ধমনী রোগ এবং হার্ট অ্যাটাক সহ। অস্বাস্থ্যকর চর্বি, সোডিয়াম এবং শর্করার যুক্ত খাবার অত্যধিক ব্যবহার, ফল, শাকসবজি এবং গোটা শস্যের অপর্যাপ্ত ভোজনের সাথে হার্টের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে যা আমাদের মানব শরীরের জন্য হুমকি স্বরুপ।

অতিরিক্ত পুষ্টি ত্বকের স্বাস্থ্য এবং চেহারাকেও প্রভাবিত করতে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অস্বাস্থ্যকর চর্বি এবং পরিশ্রুত শর্করা সমৃদ্ধ খাবার ব্রণ, প্রদাহ এবং দ্রুত বার্ধক্যের মতো ত্বকের সমস্যায় অবদান রাখতে পারে। ফল, শাকসবজি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অপর্যাপ্ত পরিমাণ এই সমস্যাগুলিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

অপুষ্টি ও অতিপুষ্টির শারীরিক লক্ষণ

অপুষ্টি এবং অত্যধিক পুষ্টির লক্ষণগুলি বোঝা এই সমস্যাগুলি সনাক্তকরণ এবং সমাধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবদান রাখে। 

অতি পুষ্টির কারন 

বিভিন্ন কারণে আমাদের শরীরে অতিরিক্ত পুষ্টি জমা হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কারণ হলো প্রয়োজনে চেয়ে বেশি খাবার গ্রহন। অতিরিক্ত প্রোটিন আমিষ শর্করা জাতীয় খাবার বেশি খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে অভাব গুলো পূরণ করে কিছু অতিরিক্ত অবস্থায় থেকে যায়। যার ফলে আমাদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগতে হয়। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফ্যাট এবং চর্বিযুক্ত খাবার বেশি থাকে যা অতি পুষ্টির অন্যতম একটি কারণ। 

অতি পুষ্টির ক্ষতিকারক দিন

বিশ্বের প্রতিবছর অতি পুষ্টির জন্য পাঁচজনের মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করছে সাম্প্রতিক কালে এক গবেষণার ফলাফল হিসেবে এই কথা জানানো হয়েছে। এই গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে অতিরিক্ত চিনি, লবণ এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার কারণে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুতে প্রতিবছর। জাতিসংঘের তথ্যমতে বর্তমান বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষ অতি পুষ্টিতে আক্রান্ত। দিন দিন শরীর এর ওজন বৃদ্ধি পাবে।

  • হজম শক্তি বা পরিপাক শক্তি কমতে থাকবে
  • শরীরের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া লক্ষণ হবে
  • এক্ষেত্রে আপনার রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে
  • শরীরের মধ্যে চর্বি জমার মত লক্ষণ দেখা দিবে
আরো পড়ুনঃ prolong 30 এর কাজ কি

হৃৎপিণ্ডে চর্বি জমতে পারে এবং এর ফলে বুকে ব্যথা হতে পারে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে কর্মদক্ষতা কমতে থাকবে যার ফলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি। 

অতি পুষ্টি থেকে বাঁচা উপায়

বর্তমান বিশ্ব অতি পুষ্টি একটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অতি পুষ্টি থেকে বাঁচার জন্য আমাদের যেসব পদক্ষেপ নেয়ার দরকার সেগুলো ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলো,আমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার অভ্যাস বাদ দিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ ২১ সপ্তাহে বাচ্চার নড়াচড়া কেমন হয়

যতোটুকু প্রযোজন সে টুকু খেতে হবে। তা বাদে আমাদের নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামগুলো করতে হবে যাতে অতি পুষ্টির ফলে শরীলে যে বাড়তি মেদ,চর্বি জমা হয় তা স্থায়ী না হতে পারে ।

আরো পড়ুনঃ হেলফিট খেলে কি ক্ষতি হয়

তা বাদে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অতিরিক্ত ফ্যাট এবং তেল জাতীয় খাদ্য না রাখা উচিত। প্রতিদিন সবজি জাতীয় খাদ্য খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত যেমন। আমাদের শরীরে যদি পুষ্টির পরিমাণ বেশি হয় তাহল নিকটবর্তী কোন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং পুষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিক করতে স্বাভাবিক করতে হবে। 

Leave a Comment