বাচ্চাদের রাতে জ্বর আসার কারণ ও প্রতিকার

প্রিয় পাঠক আজ কাল প্রায় অনেক বাচ্চাদের দেখা যায় রাতে রাতে জ্বর আসে।তাই আমি আজকে আপনার সাথে আলোচনা করবো বাচ্চাদের রাতে জ্বর আসার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত। তাই আপনার বাচ্চারও যদি এমন প্রতিরাতে জ্বর আসে তাহলে আমার আজকের এই আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ুন। তো চলুন আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট না করে শুরু করা যাক বাচ্চাদের রাতে জ্বর আসার কারণ ও প্রতিকার।

বাচ্চাদের রাতে জ্বর আসার কারণ ও প্রতিকার

আমার এই পোষ্টটি আপনি শেষ পর্যন্ত পড়লে আরো জানতে পারবেন কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসার কারণ এবং থেমে থেমে জ্বর আসার কারণ নিয়ে বিস্তারিত। তাই শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো।

পেজ সূচিপত্রঃ বাচ্চাদের রাতে জ্বর আসার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত।

  • বাচ্চাদের রাতে জ্বর আসার কারণ ও প্রতিকার
  • ছেড়ে ছেড়ে জ্বর আসার কারণ
  • কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসার কারণ
  • থেমে থেমে জ্বর আসার কারণ
  • শেষকথা – বাচ্চাদের রাতে জ্বর আসার কারণ ও প্রতিকার 

বাচ্চাদের রাতে জ্বর আসার কারণ ও প্রতিকার

আসলে জ্বর নির্দিষ্ট কোন রোগ না। জ্বর হচ্ছে বিভিন্ন রোগের বহিঃপ্রকাশ। বিভিন্ন রোগের জ্বর হয়। যেমন কেউ যদি টাইফয়েড ভুগে তার জ্বর হতে পারে বা জ্বর হয়। কারো যদি মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউরিনের সংক্রমণ হয় তার জ্বর হয়। কারো যদি যক্ষা হয় তার জ্বর হয়। অর্থাৎ শরীরে যদি কোন সংক্রমণ হয় তাহলে সেটা জ্বর হিসেবে প্রকাশ পায়।

জ্বরের আরো অনেক কারণ আছে কিন্তু সংক্রমণ বা ইনফেকশন যেটাকে আমরা বলি জ্বরের প্রধান কারণ। টাইফয়েড এর কারণে জ্বর হচ্ছে কারো যদি নিউমোনিয়া হয় নিউমোনিয়ার কারণে জ্বর হচ্ছে বা ইনফেকশনের কারণে জ্বর হচ্ছে এরকম বলা যায়। শিশু যদি অপুষ্টিতে ভোগে তাহলে তার জ্বর হওয়ার প্রবণতা অর্থাৎ অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাবে।

সে ঘন ঘন অসুস্থ হবে তার নিউমোনিয়া হবে তার মূত্রনালী সংক্রমণ হবে। অর্থাৎ যে শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে তার বারবার জ্বর হতে পারে। আবার কিছু সমস্যা থাকে যে শিশু হার্ডে যদি জন্মগত সমস্যা থাকে বা ত্রুটি থাকে এসব শিশুরা কিন্তু বারবার জ্বরে আক্রান্ত হয়।জ্বর আসার প্রতিকার। বাবা-মাকে তার শরীরের তাপমাত্রা দেখতে হবে যদি ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট কস করে।
তাহলে বাচ্চাকে কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীরটা মুছে দিতে হবে। বাচ্চাকে অতিরিক্ত পরিমাণে ডাবল খাবার দিতে হবে কেননা জ্বর হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বাষ্প আকারে বের হয়ে যায়। এবং বাচ্চাকে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার বেশি দিতে হবে। সুতরাং জ্বর হলে আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ছেড়ে ছেড়ে জ্বর আসার কারণ

অনেক কারণে জ্বর হতে পারে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ভাইরাল ইনফেকশন বিভিন্ন ধরনের তবে আমাদের দেশে সবচেয়ে কমন যেটার জন্য জ্বর হয় সেটা হচ্ছে নানা ধরনের ভাইরাল ইনফেকশন। এটা বিভিন্ন ধরনের সিজনে হতে পারে সিজনাল কিছু ভাইরাল এটাকে আমরা বিভিন্ন ধরনের ফুলু বলে থাকি। এখন বর্তমানে যেটা চলছে ডেঙ্গু ভাইরাসের জন্য করোনা ভাইরাসের জন্য এছাড়া খুব কমন লি যেটা এন্ড ফুড মাউন টিজের জন্য বাচ্চারা এমন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
জ্বর হলে আমরা বাসায় বসে কি করতে পারি। একটা ছোট্ট শিশু যখন অসুস্থ হয় বা জ্বর হয় মা-বাবা অনেক সময় একটু প্যানিক হয়ে যাই কিন্তু এরকম প্যানিক না হয়ে পিছোলিতো না হয়ে ঠান্ডা মাথায় আমরা ঘরে বসে প্রাথমিক চিকিৎসা গুলো দিতে পারি। প্রথমে জ্বর আসলে আমরা বাসায় যদি থার্মোমিটার থাকে তাহলে সেটা দিয়ে আমরা টেম্পারেসটা মেপে নিব।
তাপমাত্রা যদি 100° হয় বা তার বেশি হয় তাহলে আমরা তাপমাত্রা কমানোর ওষুধ দিব। তাপমাত্রা কমানোর ওষুধ প্যারাসিটামল এটা বাজারে বিভিন্ন দোকানে বা ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। আপনার বাচ্চার বয়স অনুযায়ী ডাক্তার যে পরামর্শ দিবেন সেই পরামর্শ অনুযায়ী আপনার বাচ্চাকে ঔষধ খাওয়াবেন।

কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসার কারণ

লিভার থেকে যে নালী দিয়ে বায়ুপিত্ত থলিতে আসে সে নালীতে যদি ইনফেকশন হয় তাহলে কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে। সাথে আরো কিছু সিংডম থাকে যেমন জন্ডিস এবং পেটের ডান সাইডের উপর দিকে ব্যথা। আমরা জানি যে মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়। ম্যালেরিয়াতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে সাথে আরো কিছু সিংডম থাকে।শরীর অনেক বেশি ঘামাবে মাথা ব্যথা পেট ব্যথা ডায়রিয়া বমি ইত্যাদি থাকবে।

ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশনের কারণে কিডনি ইন ফ্লামেশন হলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। পায়োনেফ্লাই টিসের ক্ষেত্রে আমরা যদি হাত দিয়ে ব্যাক সাইডে চেপে ধরি তাহলে ব্যথা অনুভব করব। লিভার মাসে যদি পাঁচ জমে তাহলে কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে। তাই যদি আমাদের এরকম জ্বর হয় তাহলে দূরত্ব ডাক্তারের পরামর্শ নিব। এক্ষেত্রে নিজে নিজে বা ফার্মাসিতে থেকে এমনিতে মেডিসিন নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

থেমে থেমে জ্বর আসার কারণ

ডাক্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর আসলে কোনো একটি  নির্দিষ্ট রোগ নয়।এটা হল অন্য রোগের লক্ষণ। আপনার শরীরে ফোড়া কিংবা ঘা আংশিক ভয় পাওয়া এবং টিউমার অথবা প্রসাবে ইনফেকশন হলে আপনার জ্বরের আসবে। আবার কোন রোগ অনেকদিন যাবত আপনার শরীরে বসত করছে সে কারণে আপনার শরীরে থেমে থেমে জ্বর আসতে পারে। এছাড়া মানসিক এবং শারীরিকভাবে আঘাত পেলে আপনার শরীরে থেমে থেমে জ্বর আসতে পারে। এমনভাবে আপনার শরীরে জ্বর আসতে থাকলে এটা নিয়ে অবহেলা করবেন না অতি দ্রুত আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিন। থেমে থেমে জ্বর আসায় এটি একটি খারাপ লক্ষণ। 

শেষকথা – বাচ্চাদের রাতে জ্বর আসার কারণ ও প্রতিকার 

প্রিয় পাঠক আপনারা এতক্ষণ পড়ছিলেন বাচ্চাদের রাতে জ্বর আসার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত। আশা করি আমার আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনার উপকারে আসবে। আমার এই আর্টিকেলটি  ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করতে পারেন। আর নতুন কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এতক্ষণ আমার এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Comment