Traxyl 500 এর কাজ কি – Traxyl 500 খাওয়ার নিয়ম

আসসালামু আলাইকুম, সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ। আশা করছি সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আর সুস্থ থাকার জন্যই নিশ্চয় সচেতনতার পরিচয় দিয়ে আজকের এই আর্টিকেলটি পড়তে এসেছেন। আজকের আর্টিকেলটি মেডিসিন বিষয়ক। আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে উক্ত মেডিসিন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করতে পারবেন।

Traxyl 500 এর কাজ কি
তো চলুন আপনার কাঙ্খিত Traxyl 500 সম্পর্কিত তথ্য জেনে নেয়া যাক। 
সূচিপত্রঃTraxyl 500 এর কাজ কি ও খাওয়ার নিয়ম 
  • Traxyl 500 এর কাজ কি
  • Traxyl 500 খাওয়ার নিয়ম
  • Traxyl 500 এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • শেষ কথাঃ Traxyl 500 এর কাজ কি ও
  • Traxyl 500 খাওয়ার নিয়ম

Traxyl 500 এর কাজ কি

প্রতিটি ওষুধেরই একটি স্বতন্ত্র কাজ রয়েছে। আবার প্রতিটি ওষুধেরই কাজ সম্পর্কে এবং ব্যবহারবিধি সম্পর্কে জানার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিটি ওষুধের কার্যক্ষমতা এক রকম নয়। আজকের বিষয়বস্তু হলো Traxyl 500 এর কাজ।
Traxyl 500 এই ওষুধটির কাজ আসলে কি? এই প্রশ্নটাই সবার প্রথমে মনে জাগছে তাই না? তাহলে চলুন জেনে নেই এটির কাজ কি এবং এটি কেন চিকিৎসকগণ সাজেস্ট করেন। এটি মূলত রক্তপাত প্রতিরোধে সহায়তা করে। Traxyl 500 ওষুধটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ট্রানেক্সামিক ৫০০।অনেক সময় দাঁত অপসারণ,কান অপারেশন করলে রক্তপাত হয়ে থাকে।
মত অবস্থায় রক্তপাত প্রতিরোধে উক্ত ওষুধটি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ভারি পিরিয়ড, অকার্যকর জড়ায়ু হতে রক্তপাত, প্রোস্টেট বা মূত্রাশয়ে অস্ত্রোপচারের জন্য রক্তপাত হয়ে থাকে। এই রক্তপাত কমাতে বা প্রতিরোধ করতে Traxyl 500 ওষুধটি চিকিৎসকগণ দিয়ে থাকেন। Traxyl 500 এমন একটি ওষুধ যাতে রয়েছে অ্যান্টি-ফাইব্রিনোলাইটিক যা রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে এবং রক্তপাত রোধ করে যা ঘন ঘন মাসিক রক্তপাত হ্রাস করে। মোট কথা এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রক্তপাত হ্রাস করে এবং স্বাভাবিক করে তোলে।

Traxyl 500 খাওয়ার নিয়ম

স্বাস্থ্য থাকলে অসুস্থতা ও থাকবে এটাই সত্যি। আর অসুস্থ হলে ওষুধ সেবন করা একান্ত জরুরী। আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করে থাকি। সাধারণত সকলেই জানি যে কোন ওষুধ একা একা সেবন করা উচিত নয়। কারণ এর মাত্রা বেড়ে গেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকার প্রবণতা থাকে। আর এই কারণে চিকিৎসকের মতামত অনুযায়ী ঔষধ সেবন আবশ্যক। নতুবা ওষুধ সেবনের ফলে উপকারের থেকে অপকারই বেশি হবে।
আর এর জন্য একান্ত নিজেই দায়ী। প্রতিটি বিষয়ের যেমন কিছু নিয়ম এবং বিধি নিষেধ থাকে ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রেও ঠিক তার ব্যতিক্রম নয়। ওষুধ সাধারণত খাওয়ার জন্য ব্যবহার হয়। traxyl 500 নামক ওষুধটি পানি অথবা তরল জাতীয় কোন কিছু দিয়ে গিলে খেতে হয়। এটি খাবার আগে অথবা পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হয় । তবে এক্ষেত্রে চিকিৎসকগণ traxyl 500 ওষুধটিকে চিবিয়ে অথবা চুষে খেতে নিষেধ করেন। কারণ এটি শরীর শোষণ করতে পারে না। রক্তপাত বা মাসিক শুরু হওয়ার পরে শুধুমাত্র ওষুধটি সেবন করতে হবে। 
প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য ২-৩ টি করে প্রতিদিন। তবে রোগের ধরন অনুযায়ী এর সেবন মাত্রা ভিন্ন হয়। যেমনঃ অস্ত্রোপচারের পর প্রথম তিনদিন ১-১.৫ গ্রাম দিনে দুই থেকে তিনবার সেবন করতে পারবে। আবার অধিক রক্তস্রাব হলে দিনে এক গ্রাম করে দুই থেকে তিনবার সেবন করতে পারবে। নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ সমস্যা সমাধানে ১.৫ গ্রাম দৈনিক তিনবার ৪-১০ দিন সেবন করতে পারবে।
তবে অবশ্যই এক্ষেত্রে যেখানে চিকিৎসাধীন থাকবেন এবং যে চিকিৎসক চিকিৎসা করবেন তার পরামর্শ ব্যতীত এই ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকবেন। শুধুমাত্র জানার জন্য এই আর্টিকেলটি করতে পারেন।অর্থাৎ কোন ওষুধই রোগ শুরুর আগে সেবন করা ঠিক নয় বরং রোগ যদি হয়েই যায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা বাঞ্ছনীয়। 

Traxyl 500 এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

যেকোনো ওষুধের সাইড ইফেক্ট বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। কেননা প্রতিটা জিনিসেরই একটি খারাপ দিক এবং ভালো দিক উভয়দিকই রয়েছে। এ সকল ভালো এবং খারাপ দিক মাথায় রেখে ওষুধ সেবন করতে হবে। আজকের আলোচনার বিষয় যেহেতু Traxyl 500 নিয়ে সেহেতু এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক। মানুষের রোগের জন্য ওষুধ সেবন করে এবং সে সকল ওষুধের কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। আর এ সকল ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা সাইড এফেক্ট মানবদেহে অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করে।
Traxyl 500 ও তার বাইরে নয়। উক্ত ওষুধটি সেবনের ফলে কিছু শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যে সকল লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় তা নিয়ে আলোচনা করা হলো –– উপরের আলোচনা থেকে বুঝতে পারা যায় অসুস্থ শরীরে traxyl 500 ওষুধটি সেবন করা হয়। যার সাথে ওষুধের সাইড এফেক্টেও শরীরকে দুর্বল করে দেয়। পূর্ব থেকে অসুস্থ থাকার কারণে এমনিতেই শরীর দুর্বল হয়ে থাকে আবার তার ওপর ওষুধের সাইড ইফেক্ট। Traxyl 500 সে মনের ফলে মাথাব্যথা হতে পারে। যদিও মাথা ব্যাথা এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে উক্ত ওষুধটি সেবনের ফলে মাথা ব্যথা দেখা দিতে পারে।
অনেক সময় মাথা ধরে থাকতে পারে এক্ষেত্রে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। Traxyl 500 সেবনে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে পিঠব্যথা, ডায়রিয়া প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে। পিঠে ব্যথা যে খুব বেশি দেখা দিতে পারে তা নয়। সেই সাথে ডায়রিয়া হতে পারে এক্ষেত্রে চিকিৎসকের মতামত নেয়া একান্ত জরুরি। অনেক সময় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে চামড়া বা স্কিন হতে পারে বিবর্ণ। অর্থাৎ ত্বকের উপরিভাগের রং পরিবর্তন হতে পারে। এটি খুব কমই দেখা যায়। তবে যদি ওষুধটি সেবনের পর এমনটা দেখা দেয় ঘাবড়ানোর কিছু নেই।
Traxyl 500 সেবনে তোকে এলার্জি দেখা দিতে পারে। এমন অনেক ওষুধ আছে যেগুলো সেবনের ফলে এলার্জি সমস্যা দেখা দেয়। প্রায় সকল ওষুধেই এলার্জির জন্য ভিন্ন নির্দেশনা দেয়া থাকে। তবে এলার্জি এখন বর্তমান সকলেরই হয়ে থাকে তাই আমি সাজেস্ট করব উক্ত সত্যি সেবনের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসককে বলতে হবে এলার্জি আছে কিনা সে ক্ষেত্রে অনেকাংশেই এ সমস্যা উত্তরণে উক্ত চিকিৎসক যথাযথ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন এবং সেই সাথে এলার্জির ওষুধও সাজেস্ট করতে পারেন।
অনেক সময় মাসেল বা পেশীতে অথবা জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। এছাড়া স্বাভাবিকভাবেই অসুস্থ থাকলে দুর্বলতা ক্লান্তি এবং অবসাদ আমাদের গ্রাস করে। ঠিক সে কারণেই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ফলে আমাদের শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং আমরা ক্লান্তি এবং অবসাদ অনুভব করি। অনেক সময় Traxyl 500 সেবনের পর দৃষ্টিতে রঙের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ অনেক কিছু ভিন্ন রঙের দেখতে পাই। সাইকোলজির ভাষায় একে অধ্যাস বলে বা ভুল প্রত্যক্ষণ বা ভুল দেখা।
অনেক সময় শ্বাসকার্য ব্যাহত হতে পারে, সেই সাথে মুখ, চোখের পাতা,জিহ্বা, হাত পায়ের পাতা ফুলে যেতে পারে। আবার বক্ষে ব্যথা হতে পারে, সেই সাথে মাথা ঘোরার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। উপরিউক্ত সমস্যাগুলো যদি অনেক বেশি দেখা যায় সে ক্ষেত্রে আবারো উক্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শেষ কথাঃ Traxyl 500 এর কাজ কি ও Traxyl 500 খাওয়ার নিয়ম

প্রিয় পাঠক, আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের মাঝে Traxyl 500 নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরেছি। Traxyl 500 ওষুধের কাজ কি? সেবন বিধি এবং এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছু কথা তুলে ধরেছি। এগুলো পাঠ করার মাধ্যমে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন বলে আমি আশাবাদী। আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে একটি কথাই বলতে চাই অবশ্যই যে কোন রোগ হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে কখনো নিজে নিজে ওষুধ সেবন করবেন না।
আজকের আর্টিকেলে আমি যে ওষুধটি সম্পর্কে আলোচনা করেছি এটি শুধু জানানোর উদ্দেশ্যে বলেছি। আশা করছি আপনারা উপকৃত হয়েছেন। আপনাদের মহামূল্যবান সময় দিয়ে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবা। সবশেষে, আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য এবং সুস্থ জীবনের কামনা করে আজকে আর্টিকেলটি শেষ করছি ধন্যবাদ। 

Leave a Comment