ফোড়া কি – ফোড়া হলে কি খাওয়া যাবে না

সন্মানিত পাঠকবৃন্দ আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন ও সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সাথে সম্পন্ন নতুন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হলো ফোড়া কি ও ফোড়া হলে কি খাওয়া যাবে না। ফোড়া হলো এমনি একটি জিনিস যা মানব দেহের যে কোনো জায়গায় বের হতে পারে এবং এই ফোড়া বের হওয়া থেকে শুরু করে সম্পন্ন নিরাময় হওয়া প্রর্যন্ত আনেক যন্তনা দায়ক হয়ে থাকে। যাদের ফোড়া হয়েছে এবং এই ফোড়ার কারণে প্রচুর পরিমাণে ব্যথা অনুভব করছেন তারা অতি দূত এটি পাকিয়ে ফেলুন এবং এটা থেকে ভালো সুস্থ হয়ে উঠুন। 

ফোড়া হলে কি খাওয়া যাবে না

ফোঁড়া যখন হয় তখন শরীরের একটা নির্দিষ্ট অংশে ফুলে ফুলে উঠে ও ভেতরের অংশে আস্তে আস্তে রক্ত পুজ সহ বিভিন্ন পদার্থ জড়ো হতে থাকে । আর এই কারণে শরীরের সেই নির্দিষ্ট অংশ প্রচন্ড ব্যথা হয়ে থাকে এবং কেউ যখন সেটাতে হাত দেয় তখন আস্তে আস্তে ব্যথা বাড়তে থাকে ও ফুলা টাও বাড়তে থাকে । তাছাড়া সেই ফোড়া যখন পাকতে থাকে তখন সেখানে টনটনে ভাব চলে আসে এবং সেখান থেকে গোলে ফেটে একটা মুখের সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকে পুজ বের হয়ে আসে। ফোড়া সময় আমাদের আনেক রকম জিনিস খাবার বারন থাকে সেটা আমরা আনেকে জানি না। তাহলে চলুন সে বিষয়ে আজকের আর্টিকেল মাধ্যমে বিস্তারিত চেনে নেওয়া যাক। 

সূচিপত্র : ফোড়া হলে কি খাওয়া যাবে না

  • ফোড়া কি
  • এর প্রধান লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি কি কি?
  • ফোড়া হলে কি খাওয়া যাবে না
  • শেষ কথা – ঘরোয়া পদ্ধতি ফোড়া পাকানোর উপায়

ফোড়া কি

সাধারণ ভাবে বলতে গেলে ফোড়া হলো মানব দেহে চামড়া উপর কোনো স্থান ফুলে উঠে প্রচন্ড বেথা সৃষ্টি করে এবং ভিতরে রক্ত পুজ তৈরি হয় সে আবস্থা কে সাধারণ ফোড়া বলে থাকি। আর মেডিকেলের ভাষায় ফোড়া হলো একটি ফোড়া হল একটি অঙ্গ বা টিস্যুর মধ্যে তৈরি জমে থাকা পুঁজের গঠন। এটি মাইক্রো-অরগ্যানিজম বা সূক্ষ্ম-জীব, মৃত কোষ, তরল পদার্থ এবং অন্যান্য পচা জিনিসে পরিপূর্ণ ভরা থাকে। একটি ফোড়া শরীরের যে কোন অংশে হতে পারে, যেমন মুখমণ্ডলে, মুখে, দাঁতে, তাছাড়া কিডনি বা পেট ইত্যাদি অঙ্গগুলিতেও হতে পারে। যদিও, ত্বকের ফোড়াই হল সবথেকে সাধারন কিন্তু এই ফোড়া জন্মানো থেকে শুরু করে পুরোপুরি নিমুল হওয়া প্রর্যন্তো প্রচন্ড কষ্ট সাধ্য হয়ে থাকে। 

একটি ফোড়া সাধারণত তখনই তৈরি হয় যখন ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য সূক্ষ্ম-জীব যেমন ; মাইক্রো-অরগানিজম, ভাইরাস, ছত্রাক এবং প্যারাসাইট দ্বারা সৃষ্ট কোন ধরনের ইনফেকশন বা সংক্রমণ হয়ে থাকে। কোন অঙ্গে বাইরের কোন একটি বস্তু ঢুকেও একটি ফোড়া তৈরি করতে পারে।দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে মানুষের মধ্যে একটি ফোড়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

যে অবস্থাগুলির ফলে দুর্বল ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা তৈরি হয় সেগুলি হল এইডস ডায়াবেটিস,ক্যান্সার,কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি,মদে নেশাগ্রস্ত হওয়া এটা প্রয়োজনীয় নয় যে ফোড়া শুধুমাত্র অন্যান্য রোগের উপস্থিতিতেই হতে পারে তা নয়। একজন সুস্থ ব্যক্তিরও ফোড়া হতে পারে। ভেতর দিকে বাড়তে থাকা চুলের ফলিক্যাল সংক্রমিত হয়ে থাকে তাদের চারপাশে একটি ফোড়ার সৃষ্টি করে, যাকে ফারাংকেল বা লোমফোড়া বা ফোস্কা বলা হয়ে থাকে। 

এর প্রধান লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি কি কি

ফোড়া আনেক লক্ষন ও উপসর্গ আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ কিছু লক্ষন হলো ত্বকের ফোড়ার সাধারণ লক্ষণগুলি হল লালচেভাব, ব্যথা, ফুলে যাওয়া এবং হলদেটে তরলে ভরা একটি ছোট ত্বকের ফুসকুড়ি হয়ে থাকে। যদি আপনার অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির মধ্যে ফোড়া তৈরি হয়ে থাকে, তবে সংক্রমণের কারণে জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা সহ, আপনি ওই জায়গাটিতে ব্যথা ও প্রচন্ড জালাযন্তনা অনুভব করতে পারেন।


ফুসফুসের মধ্যে ফোড়া হলে, ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে খুবি অসুবিধা হয়, সে ক্লান্তি অনুভব করে ও তার কাশির সমস্যাও হয়ে থাক ফোড়া যেখানে হয় তার উপর ভিত্তি করে ওই এটি অঙ্গের কার্যকারিতাকে ব্যাহত করতে পারে। একইভাবে, যদি টনসিলেরর আশেপাশে একটি ফোড়া তৈরি হয় থাকে, তাহলে একজন ব্যক্তি কথা বলার সময় এবং কোনো কিছু খাওয়ার সময় প্রচন্ড ব্যাথা পেয়ে থাকে। 

ফোড়া হলে কি খাওয়া যাবে না :

সাধারণ আমাদের যদি ফোড়ন হয়ে থাকে আমরা টক জাতীয় খাবর খাই না যাতে আমাদের ফোড়া পাকানোর স্যামসা হতে পারে কিন্তু আমাদের এই ধারনা টি পুরোপুরি ভুল ধারনা। টক জাতীয় খাবার খেলে আমাদের ঘা টা তাড়াতাড়ি সুখিয়ে যায় ও ফেড়া থেকে আমরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠি৷ শরীরে যখন ফোড়া হয় তখন যে সব খাবারে এলাজি আছে সে সব খাবার খাওয়া যাবে না কারন আপনার শরীরে যদি কোনো প্রকার এলাজি থেকে থাকে তাহলে ফোড়ার পরিমান আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
ও ফোড়ার আসে পাশে চুলকানিও হতে পারে তখন আমাদের বিপদ আরো বাড়তে পারে। বাংলা একটা কথা আছে ফোড়ার উপর মরার ঘা তেমন আবস্থা আমাদের হতে পারে তাই বলছি ফোড়া বের হলে এলাজি জাতিয় খাবার যেমন : কচু, পুইসাক, বেগুন, ধেরস, ইলিশ মাছ, গরুর মাংস ইত্যাদি খাওয়া থেকে কিছু দিন বিরতে থাকতে হবে। যাতে ফোড়ার সময় আন্য কোনো শারীরিক স্যামসা না হয়। আর ফোড়া বের হলে বেশি করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খবার খেতে হবে যাতে ফোড়ার ঘা টা তাড়াতাড়ি সুখিয়ে যায় ও ফোড়া টা তাড়াতাড়ি সেরে যায়।


শেষ কথা – ঘরোয়া পদ্ধতি ফোড়া পাকানোর উপায় : 

আমাদের আসেপাশে এমন আনেক উদ্ভিদ আছে যা দিয়ে আমরা সহজে আমাদের শরীরে যন্তনা দায়ক এই ফোড়া পাকাতে পারি তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কিছু উপায় হলো ৫০ গ্রাম নিয়ে নিমের পাতা বেটে তাকে একটা ট্যাবলেটের মতো তৈরি করে নিন এরপর একেবারে পুলটিসের মতো ফোড়ার ওপর লাগালে ফোড়া সেরে যেতে পারে ফোড়াতে যদি পুঁজ হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে নিমের পাতার সঙ্গে সম পরিমাণ গোলমরিচ গুঁড়ো করে দিয়ে ফোড়াতে লাগিয়ে দিন ফোঁড়া দ্রুত শুকিয়ে যাবে। 

তা বাদে আরো দুটো পুঁই পাতা ভালো করে ধুয়ে বেটে নিয় দিনে দু বার ব্রণ বা ফোঁড়ার ওপর পুরু করে প্রলেপ করে দিয়ে রাখুন। গাঁদা ফুল এবং পাতা দুটি ফুল এবং পাঁচটি পাতা ভালো করে ধুয়ে থেতে করে নিয়ে। দিনে দু বার ফোঁড়া বা ব্রণের ওপর সুন্দর করে লাগিয়ে দিন। আরো একটি উপকারি পদ্ধতি হলো কাঁঠালের গাছ থেকে দুধের মতো যে কষ বের হয় তা সংগ্রহ করে তার সাথে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে নিয়ে মিশ্রণটি গরম করে হট কম্প্রেস হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন সেঁক দেবার জন্য পরিষ্কার ছোট সুতি কাপড়ের টুকরা ব্যবহার করতে পারেন বিশ মিনিট করে সেঁক দিবেন। ও পাঁচ কচি পাতা এবং দুটো ফুল ভালো করে ধুয়ে থেতে করে নিয়ে।


আরো পড়ুনঃ পেটের মেদ কমানোর উপায়

এটা সরাসরি ব্রণ অথবা ফোঁড়ার ওপর লাগিয়ে দিন। দিনে দুই বার এভাবে এ এই মিশ্রণ গুলো লাগালে আপনার ফোড়া তাড়াতাড়ি পেকে যাবে ও ভালো হয়ে যাবে৷ প্রকৃতিক ভাবে আরো দুইটি পদ্ধতি আছে এ গুলো হলো কয়লা গুঁড়ো করে নিয়ে পানিতে ভিজিয়ে এক টুকরো পরিষ্কার কাপড়ে বা রুমালে জড়িয়ে নিয়ে । সরাসরি পুলটিশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন দিনে দু বার বা তার বেশি। 


গরম সেঁক: একটা পরিষ্কার কাপড় নুন, গরম জলে ফুটিয়ে নিন। এই ভেজা গরম কাপড় ফোঁড়ার ওপর ১০ মিনিট চেপে রেখে সেঁক দিন তার পর আবার কয়েক মিনিট পর একই ভাবে রেখে দিন।এ সব কর্যবলি মেনে চলে আপনার ফোড়া আপনি ঘরোয়া উপায়ে নিরাময় ও পাকাতে পারেন।


আরো পড়ুনঃ কি খেলে খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয় জানুন

সন্মানিতো প্রিয় পাঠক আশা করি আমাদের আজ কের এই ফোড়া কি ও ফোড়া হলে কি খাওয়া যাবে না নিয়ে লেখা আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। ফোড়ি, কি কারনে ফোড়ার সৃষ্টি হয় এবং ফোড়া হলে কি খাওয়া যাবে না ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আজকে লেখা। আজকের লেখ টা পড়ে যদি আপনারা উপকৃত হন তাহলে আমার লেখা স্বাথক হবে। 

Leave a Comment