গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট কমে গেলে করণীয়

সম্মানিত প্রিয় পাঠক আশা করি আপনারা ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের সাথে একটা নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা করব আমাদের আজকের আলোচনায় বিষয় হলো গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট কমে গেলে করণীয় কি। গর্ভাবস্থায় থাকা কালিন পঞ্চম সপ্তাহেই গর্ভের শিশুর হৃদপিণ্ডের গঠন শুরু হয়ে থাকে । তাই কনসিভ করার সাধারণত ২২-২৪ দিনের মধ্যেই অর্থাৎ গর্ভাবস্থার ষষ্ঠ সপ্তাহ নাগাদ বাচ্চার হার্টবিট শুরু হয়। তবে এই সময় বাচ্চার হৃদপিণ্ড এতটাই ছোট আকারে থাকে যে তা আল্ট্রাসাউন্ড বা ডপলার মেশিনে ধরা পড়ার মত শব্দ উৎপন্ন করতে পারে না। 

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট কমে গেলে করণীয়

গর্ভাবস্থার ৮ সপ্তাহ নাগাদ যদি আলট্রাসাউন্ড করা হয়ে থাকে তবে এই সময় বাচ্চার হার্টবিট বোঝা ধরা পড়ে। ডপলার মেশিনে ১০ সপ্তাহ নাগাদ বাচ্চার হার্টবিট বোঝা যেতে পারে তবে ১২ সপ্তাহেই তা ঠিকমতো বোঝা যায়। কত তাড়াতাড়ি বাচ্চার হার্টবিট মেশিনে ধরা পড়বে তা নির্ভর করে মায়ের জরায়ুতে বাচ্চার অবস্থান, প্লাসেন্টার অবস্থান এবং মায়ের ওজনের উপর। আবার অনেক সময় দেখা যায় মায়ের শারীরিক জটিলতার কারণে বাচ্চার হার্টবিট কমে যায়। এই স্যামসার সমাধান নিয়ে আমদের আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশা করি আর্টিকেলটি শেষ প্রর্যন্ত পড়বেন। তাহলে চলুন আপনাদের সময় নষ্ট না করে আর্টিকেলটি শুরু করা যায়। 

সূচিপত্র :গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট কমে গেলে করণীয়

  • গর্ভাবস্থায় কত দিনে হার্টবিট শুরু হয়
  • গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্ট সুস্থ রাখতে করোনীয়
  • গর্ভঅবস্থা হার্টবিট কমে যাওয়ার কারণ
  • শেষ কথা – গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট ও বাচ্চাকে সুস্থ রাখতে করণীয়।

গর্ভাবস্থায় কত দিনে হার্টবিট শুরু হয় : 

বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সন্তান গর্ভে আসার পঞ্চম সপ্তাহের মধ্যে সন্তানের হৃৎপিণ্ডের গঠন শুরু হয়। গর্ভাবস্থায় ষষ্ঠ সপ্তাহে অর্থাৎ ২২ থেকে ২৪ দিনের মধ্যে বাচ্চার হার্টবিট শুরু হয়ে থাকে। বাচ্চার হার্টবিট শুরু হওয়ার পর হৃদপিণ্ড এতটাই ছোট থাকে যে আল্ট্রাসাউন্ড বা ডপলার মেশিনে বাচ্চার হার্টবিটের শব্দ বুঝতে পারা যায় না। পরে গর্ভাবস্থায় আর সপ্তাহের মধ্যে আল্ট্রাসাউন্ড বা ডপলার মেশিনে পরীক্ষা করলে আচ্ছা হার্টবিট বুঝতে পারা যায় কারণ তখন হৃদপিন্ডের আকার কিছুটা বড় হয়ে থাকে এবং আস্তে আস্তে বাচ্চার হার্টবিটের শব্দ বুঝতে পারা যায়।

পরবর্তী বারো সপ্তাহে নাগাদ গর্ভাবস্থায় থাকা একজন বাচ্চার হার্টবিট সুইস্পষ্টভাবে বুঝতে পারা যায়। বিশেষজ্ঞদের মনে করেন , দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারের তুলনায় তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে হার্টবিট অনেকটা স্থিতিশীল হয়ে থাকে। তবে বাচ্চা প্রসবের আগে হার্টবিট কিছুটা কমে যায়। ফুল টার্ম প্রেগন্যান্সিতে প্রসবের সময় বাচ্চার হার্টবিট থাকে ১৪০ bpm ও এর কাছাকাছি আর প্রি-টার্ম প্রেগন্যান্সিতে তা হতে পারে ১৫৫ bpm এর কাছাকাছি। সাধারনত বাচ্চার হার্ট রেট ১০০-১৬০ এর মধ্যে থাকলে তাকে নরমাল হাটবিট হিসবে বিবেচনা করা যায়।

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্ট সুস্থ রাখতে করোনীয় : 

একজন মায়ের তার সন্তান গর্ভে আসার পর অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয় সন্তানকে সুস্থ রাখতে এবং সন্তানের হার্টবিটকে সুস্থ রাখার জন্য একজন মায়ের অনেক সাবধানতা করে জীবনযাপন করতে হয়। কারণ ওই মায়ের উপরে গড়বে থাকা তার সন্তানের সুষ্ঠুভাবে ভূপৃষ্ঠ ও স্বাভাবিক শারীরিক গঠন নির্ভর করে তাই একজন মাকে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় তার ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্য। তা বাদে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেমন : ক্রোমোসোমাল এবং জেনেটিকাল অ্যাবনরমালিটি। তবু কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি আপনার গর্ভস্থ শিশুর হার্ট সুস্থ রাখতে চেষ্টা করতে পারেন তাহলে চলুন সে বিষয় গুলো জেনে নেওয়া যাক।

১. আপনি যদি গর্বে সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড গ্রহন করতে হবে। গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিড খুবই কার্যকরি ফলিক এসিড নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (NTD) ছাড়াও বেশ কিছু হৃদপিণ্ড সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে থাকে। 

২. গর্ভাবস্থায় থাকা সন্তানের বাবা-মায়ের যদি ধূমপানের অভ্যাস থাকে তাহলে তা যত দূরে সম্ভব পরিত্যাগ করতে হবে কারণ এটা গবেষণায় দেখা গেছে গেছে শতকরা ২ ভাগ জন্মগত হৃদ রোগের কারণ বাবা-মা এর ধুম পাদের বদ আভ্যাস। 

৩. যদি গর্ভাবস্থায় মায়ের ডায়াবেটিস থাকে তাহলে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় ডায়াবিটিস জন্মগত হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক টা বাড়িতে তুলে। 

৪. গর্ভাবস্থায় অ্যালখল বা নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে এবং যতো দূর সম্ভব পুষ্টি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। 

৫.বিজ্ঞানীদের কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গিয়ছে গর্ভাবস্থায় যে সব মায়েরা নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করেছেন তাদের বাচ্চাদের হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকার হার অনেক বেশী। তবে মনে রাখতে হবে শরীরচর্চা করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে যে কোন কোন পদ্ধতি চলছে করা যায়। 

গর্ভঅবস্থা হার্টবিট কমে যাওয়ার কারণ :

গর্ভঅবস্থায় মায়ের বিভিন্ন কারনে সন্তানের হার্টবিট কমে যেতে পারে তার মধ্যে কয়েক টি উল্লেখ যোগ্য কারন হলো। আনেক সময় মাতৃগর্ভ বাচ্চার আবস্থান এর উপর বাচ্চার হাটবিট নির্ভর করে থাকে। বাচ্চা হাটবিট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাধারন্ত ৬ সপ্তাহের পর থেকে যে কোনো সময় হাটবিট শুরু হয় কিন্তু কিছু ক্ষেএেবিশেষ এ সমযে হাটবিট আনেক সময় আসেনা। গর্ভ আবস্থা ভূণের হাটবিট যেমন হযে থাকে ৫ম থেকে ৬ষ্ট সপ্তাহে ১১০ মিনিট,৯ম থেকে ১০ম সপ্তাহে ১৭০ মিনিট, ১৪ তম সপ্তাহে ১৫০ মিনিট, ২০ তম সপ্তাহে ১৪০ মিনিট আর জন্মের সময় ১৩০ মিনিট হয়ে থাকে বাচ্চা হাটবিট।

আরো পড়ুনঃ গর্ভবস্তায় ছেলে সন্তান পেটের কোনদিকে থাকে দেখে নিন

মোট কথা একটা শিশুর গর্ভাবস্থায় হাটবিট ১২০ থেকে ১৭০ প্রর্যন্ত উঠা নামা করতে পারে। যদি গর্ভআবস্থায় ৬ষ্ঠ সপ্তাহে পর ৭ সপ্তাহে হাটবিট না আসে তাহলে গর্ভপাতের আশংকা সৃষ্টি করতে পারে। তবে সুচিন্তি না করে অপেক্ষা করতে হবে। আগের মতো এ সপ্তাহ কিছু টা ভুল হলে হাটবিট শোনা নাও যেতে পারে। পরের ৮ম সপ্তাহে যদি বাচ্চার হাটবিট না আসে আর আপনার গর্ভধারনের হিসবে যদি সঠিক হয় তাহলে বুঝবেন।

আরো পড়ুনঃ  সবসময় বমি বমি ভাব হবার কারণ কি জানুন

আপনার গর্ভপাত হয়েছে কারন একটি সুস্থ ভ্রণের হৃদপিণ্ড তৈরি হয়ে হাটিবট শুরু হতে ৮ সপ্তাহে বেশি সময় নেই না। তবে ৮ম সপ্তাহে হাটবিট না পাওয়া গেলে গর্ভের সন্তান টি নষ্ট হযে গিয়েছে এটা ভেবে হতাশ হবেন না। এ সময় আমাদের পরামর্শ হলো কমপক্ষে ১০ সপ্তাহে প্রর্যন্ত আপেক্ষা করতে হবে তারপর পরিক্ষা করে সন্তানের হাটবিট না পাওয়া গেলে বুঝতে হবে আপনার গর্ভপাত হয়েছে। 

শেষ কথা – গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট ও বাচ্চাকে সুস্থ রাখতে করণীয় 

গর্ভআবন্থায় মা কে তার অতিরিক্ত সাবধানে থাকতে হয় কারন তার উপর তার ভবিষ্যত সন্তানের সুস্থতা নির্ভর করে থাকে। এক জন মার সন্তান গর্ভে আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো তার সন্তান কে গর্ভ সুস্থ রাখা ও নিজে সুস্থ থাকা সে জন্য নিয়মিত পুষ্টি জাতীয় খাবার খেতে হবে কিছু দিন পর পর চেকাপ করে সন্তানের হাটবিট ওজন, শারীরিক গঠন ঠিক আছে কি না তা চেকাপ করাতে হবে। কোনো কারনে বা গর্ভে সন্তানের আবস্থানের ভিওিতে সন্তানের হাটবিট কমে যায় ও আমরা চিন্তত হয়ে পড়ি। বা মায়ের মানুসিক চাপো তার সন্তানের জন্য ক্ষতি কর হতে পারে তাই আমরা সবসময় চেষ্টা করবো সন্তানকে সুস্থ রাখতে তার বয়স অনুযায়ী গর্ভে যে হাটবিট সেটা যেনো স্বাভাবিক থাকে ও মা যেনো সুস্থ থাকে। 

আরো পড়ুনঃ লেবার পেইন উঠানো উপায় জেনে নিন

প্রিয় পাঠক আসা করি আপনারা এই আর্টিকেল টি পরে গর্ভাবস্থায় বাচ্চার হার্টবিট কমে গেলে করণীয় ও মাতৃি গর্ভে সন্তানের যন্ত্র ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করতে পেরেছেন। আর আর্টিকেল টি পড়ে যদি আপনারা উপকৃত হন তাহলে আমার লেখা স্বাথক হবে। 

Leave a Comment