সৌদি মেডিকেল আনফিট কেন হয়

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। প্রিয় পাঠক আশা করছি সকলে ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। অন্যান্য দিনের মতো আজকেও আপনাদের সামনে আরো একটি নতুন আর্টিকেল নিয়ে হাজির হয়েছি। এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমি উপস্থাপন করার চেষ্টা করব কেন মেডিকেল আনফিট হয় এ বিষয় নিয়ে।

সৌদি মেডিকেল আনফিট কেন হয়

আশা করি আপনার মূল্যবান সময়টুকু দিয়ে আপনার কাঙ্খিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেতে আজকের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়বেন। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে আজকের আর্টিকেলটি শুরু করা যাক। 

সূচিপত্রঃ সৌদি মেডিকেল আনফিট কেন হয়

  • সৌদি মেডিকেল আনফিট কেন হয়
  • কি কি কারণে সৌদি মেডিকেল আনফিট হয়
  • সৌদি মেডিকেল ফিট হতে কি কি করনীয়
  • শেষ কথাঃ সৌদি মেডিকেল আনফিট কেন হয়

সৌদি মেডিকেল আনফিট কেন হয়

মানুষ জীবিকার সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে প্রতিনিয়তই গমন করে চলেছে। কেউবা জীবিকার তাগিদে আবার কেউবা ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে প্রবাসে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে সৌদি আরবে গমনের পূর্বে মেডিকেল টেস্ট করা হয়। কেউ যদি এই মেডিকেল টেস্টে অকৃতকার্য হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে সে সৌদি কমন থেকে সাময়িকভাবে বাধা প্রাপ্ত হবে। কেননা সৌদি আরবে মেডিকেলে আনফিট হলে সে সকল শ্রমিককে গ্রহণ করে না। 

এখন আপনাদের অনেকের মনে একটি প্রশ্ন সেটি হল কেন এবং কি কি কারণ আমি সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয়। আমাদের আজকের আলোচনার মধ্যে এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। তাই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়া অনুরোধ রইল। 

সৌদি মেডিকেল অ্যান্ড ফিট কেন হয় এটা অনেকেরই জানা নেই। কিন্তু যখন মেডিকেল টেস্টের পর দেখে সে আনফিট তখন সে হতাশায় ভোগে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো মেডিকেল আনফিট হলে ভিসা প্রদান করা থেকে বিরত থাকে। আর যদি মেডিকেলে উত্তীর্ণ হয়ে যান তাহলে তো ভিসা পেয়ে যাবেন এক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না। সৌদি মেডিকেল আনফিট হওয়ার কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো 
মেডিকেলে আনফিট নাকি ফিট সেটি দেখার জন্য কয়েকটি টেস্ট করা হয় সেগুলো হলো —

ইউরিন বা প্রসাব টেস্ট করা, এক্স – রে করা এবং ব্লাড টেস্ট বা রক্ত পরীক্ষা করা। সাধারণত এই তিনটি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে যদি উত্তীর্ণ না হতে পারেন সে ক্ষেত্রে ভিসা প্রদান করা হয় না। এগুলো গেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এবারে আমরা জানবো কোন কোন রোগ থাকলে সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয়। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক সে সকল রোগ সম্পর্কে যেগুলো ক্লাস সৌদি মেডিকেল আনফিট হওয়ার জন্য দায়ী। 
যদি হার্টের সমস্যা থাকে হৃদরোগ থাকে সে ক্ষেত্রে সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয়। জন্ডিসের সমস্যা থাকলে সৌদি মেডিকেল আণফিট ঘোষণা করা হয়। শ্বাস কষ্টের সমস্যা বা এজমা থাকলে সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয়। জন্ডিস থাকলে সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয়।এছাড়া আরো একটি রোগ যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হয় না সেটি হল এইচআইভি বা এইডস। এই রোগটি থাকলে সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয়। 
ওপরে উল্লেখিত এ সকল রোগ থাকলে সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয় বলে জানা যায়। এজন্য আমি সাজেস্ট করব মেডিকেল টেস্ট করার আগে আপনি একবার ব্যক্তিগতভাবে ফুল বডি চেকআপ করে নিবেন। যদি আপনার শরীরে কোন রকম রোগ ব্যাধি থাকে সে ক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে চিকিৎসা করে সৌদি মেডিকেল চেকআপে যাওয়া। নতুবা আপনি মেডিকেলে আনফিট হবেন। 

কি কি কারণে সৌদি মেডিকেল আনফিট হয়

সৌদি মেডিকেল আনফিট কেন হয় তা নিয়ে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। আপনাদের সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো —- 
যদি হার্টের সমস্যা থাকে হৃদরোগ থাকে সে ক্ষেত্রে সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয়। জন্ডিসের সমস্যা থাকলে সৌদি মেডিকেল আণফিট ঘোষণা করা হয়। 
শ্বাস কষ্টের সমস্যা বা এজমা থাকলে সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয়। জন্ডিস থাকলে সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয়।এছাড়া আরো একটি রোগ যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হয় না সেটি হল এইচআইভি বা এইডস। এই রোগটি থাকলে সৌদি মেডিকেল আনফিট ঘোষণা করা হয়। 
আপনার মধ্যে যদি উপরে আলোচিত রোগের যেকোনো একটি পরিলক্ষিত হয় সে ক্ষেত্রে আপনি মেডিকেলে আনফিট হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে এক্ষেত্রে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সমস্যা যখন আছে নিশ্চয়ই এর সমাধান রয়েছে। তাই মেডিকেলে ফিট হতে আপনি আপনার রোগ সম্পর্কে সচেতন হয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন। একেকটা কিছুদিন হয়তো দেরি হতে পারে কিন্তু আপনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর ভিসা পেয়ে পুনরায় সৌদি গমনের সুযোগ পেতে পারেন। 

সৌদি মেডিকেল ফিট হতে কি কি করনীয়

অনেকের স্বপ্ন থাকে সৌদি আরব গিয়ে টাকা ইনকাম করবে। নিজের পরিবারকে সচ্ছল করবে এবং সেই সাথে একটি উন্নত জীবন গঠন করবে। তারা যদিও নিজেদের স্বার্থে সৌদি বা প্রবাসে গমন করে কিন্তু তাদের অর্জিত অর্থ দেশের রেমিটেন্স বাড়াতে সাহায্য করে। তারা আমাদের দেশের রেমিটেন্স যোদ্ধা। কিন্তু অনেক সময় যাদের স্বপ্ন ভেঙে যায় মেডিকেল আনফিট হওয়ার কারণে।
অনেকের সবকিছু রেডি থাকার পরেও মেডিকেলে আনফিট হওয়ার কারণে তারা তাদের কাঙ্খিত কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেনা। আর তখন তাদের মনে নেমে আসে হতাশা। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে সৌদি মেডিকেল আনফিট হলে কি কি করণীয়? কি কি করলে সৌদি মেডিকেল ফিট হওয়া যায়? আজকের আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেই সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করব

প্রথমত, মেডিকেলে আনফিট হয়েছে কেন সেটা খুঁজে বের করতে হবে। সেটি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তার সুব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোন রোগ থাকলে তার যথাযথ সুচিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ফিট হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। যদি হার্টের সমস্যা হৃদরোগ থেকে থাকে তাহলে তার ভিসা পেতে জটিলতা দেখা দেয়।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কিছু টাকা দিয়ে তা ঠিক করে নেয়া যায়। তবে এটি আমার মনে হয় অবৈধ হবে। তাই বৈধ পথে কেমন করে যাওয়া যায় সেটি সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। এজন্য এজেন্সির সাথে কথা বলা যেতে পারে। রেক্ত ইনফেকশন বা কোন সমস্যা থাকলে যথা দ্রুত সম্ভব তা পুনরায় মেডিকেল টেস্ট এর পূর্বেই ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা করতে হবে।

উপরের আলোচনা থেকে এটুকু বোঝা যায় যে, কোন রোগের কারনে যদি মেডিকেল আনফিট হয় সে ক্ষেত্রে ফিট হয়ে তারপর আবার মেডিকেলের রিকুয়েস্ট করে তারপর সৌদি আরবে প্রবেশ করা যেতে পারে। তাই একটা কথা আবারো বলছি যদি কোনো কারণে সৌদি মেডিকেল আনফিট হন সে ক্ষেত্রে না ঘাবড়িয়ে চিকিৎসা নেয়ার পর পুনরায় মেডিকেল করার আবেদন করতে হবে। আশা করি যদি উপরের বিষয়গুলো মেনে চলতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনি পরবর্তীতে মেডিকেলে ফিট হবেন ইনশাআল্লাহ। 

শেষ কথাঃ সৌদি মেডিকেল আনফিট কেন হয়

প্রিয় পাঠক, আজকের আলোচনার মাধ্যমে আমি উপস্থাপন করেছি — সৌদি মেডিকেল আনফিট কেন হয়? কি কি কারণে বা কোন কোন রোগের কারণে কোন সমস্যার কারণে সৌদি মেডিকেল আনফিট হয় সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আনফিট হলে কি কি করনীয় সে সম্পর্কে ধারণা প্রদান করার চেষ্টা করেছি। সবশেষে আরও উপস্থাপন করেছে কিভাবে সৌদি মেডিকেল ফিট হওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ পোল্যাড কাজের বেতন কত জেনে নিন

আশা করি আপনি আপনার কাঙ্খিত বিষয়টি সম্পর্কে যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর সুস্পষ্ট ভাবে পেয়েছেন। আপনার মহামূল্যবান সময়টি দিয়ে আজকের আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে সকলের সুস্বাস্থ্য এবং সুস্থ জীবনের কামনা করে আজকে আর্টিকেলটি এখানে শেষ করছি। ধন্যবাদ। 

Leave a Comment