লেবার পেইন উঠানোর উপায়

সম্মানিত পাঠক বৃন্দ আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আমাদের বর্তমান সময়ে বিশেষ করে মেয়েদের যখন মা হওয়ার সময় আসে তখন কোন সময়ে তাদের বাচ্চা ভূপৃষ্ট হবে সে বিষয় নিয়ে তারা টেনশনে থাকেন অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শ নেন কিংবা ডাক্তারের কাছে শারীরিক চেকআপ করে ডাক্তার নির্দিষ্ট একটা তারিখ বলে দেয় যে এই সময় আপনার শিশু ভূপৃষ্ঠ হওয়ার অবস্থায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকবে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে সঠিক সময়ে গর্ভবর্তি মা দের লেবার পেইন উঠে না আসলে আমরা অনেক সময় টেনশনে পড়ে যায় যে কিভাবে লেবার পেন উঠানো যায়।
লেবার পেইন উঠানোর উপায়

আজকে আমি সে বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে বিস্তারিত  আলোচনা করব। কিভাবে লেবার পেন উঠানো যায় লেবার পেন উঠানো সঠিক নিয়ম লিভারপেন উঠানোর ওষুধ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করব। আজকে আর্টিকেলটা আপনারা শেষ পর্যন্ত পড়লে সহজে বুঝতে পারবেন যে মাদের প্রসব এর সময় লেবার পেইন উঠানোর নিয়ম। তাহলে চলুন আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে আজকের আর্টিকেলটি শুরু করা যাক।

সূচিপত্র : লেবার পেইন উঠানোর উপায়

  • কৃত্রিম উপায়ে লেবার পেইন উঠানোর উপায়
  • লেবার পেইন এর লক্ষন
  • লেবার পেইন উঠানারো ওষধ
  • লেবার পেইন উঠানোর দোয়া
  • শেষ কথা – লেবার পেইন উঠানার পদ্ধতি সমূহ

কৃত্রিম উপায়ে লেবার পেইন উঠানোর উপায়


প্রেগন্যান্সী লম্বা একটা সময় আর সে সময় শেষ হয় লেবার বা প্রসবের মাধ্যমে শিশু সন্তানের জন্ম দিয়ে। শেষের সপ্তাহ গুলোতে এসে মায়েরা লেবার পেইন কখন শুরু হবে তার প্রতীক্ষায় থাকেন। লেবার পেইন এমনি এমনি শুরু হয় না আনেক পদ্ধতি ও আনেক ওষধ আছে শুরু করার জন্য তবে লেবার পেইন প্রাকৃতিকভাবে শুরু করতে মায়েদের কোন কিছু করণীয় আছে কি না তা তারা জানার চেষ্টা করে থাকেন। বর্তমানে লেবার পেইন তোলার কৃত্রিম পদ্ধতি আছে। কিন্তু আমাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে, একটা অপ্রয়োজনীয় মেডিক্যাল হস্তক্ষেপ আরও একাধিক হস্তক্ষেপের সূত্রপাত ঘটায় ঘটিয়ে থাকে। 

আগে তেমন মেডিকেল ইকুপমেন্ট ছিলনা তখন প্রাকৃতিক ভাবেই মা দের লেদার পিন হত ও প্রাকৃতিকভাবে বাচ্চা প্রসব হতো আর প্রসব যতদূর সম্ভব প্রাকৃতিক রাখাই ভালো এতে বাচ্চা বা বাচ্চার মা এর কোনো ক্ষতি হয় না।  তাই প্রাকৃতিকভাবে লেবার পেইন শুরু করা একজন মায়ের লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত। যেহেতু প্রত্যেকের শরীর আলাদা, সবার জন্য লেবার পেইন একই সময়ে শুরু নাও হতে পারে আনেকের শারীরিক জটিলতার জন্য দেরি হতে পারে প্রেগন্যান্সী সময় টা শেষের একটা নির্ধারিত সময় আছে, যেটা এক একজন মায়ের ক্ষেত্রে এক একরকম হতে পারে।  একেবারে ঝুঁকিমুক্ত প্রেগন্যান্সীতে ৩৯ সপ্তাহ থেকে মায়েরা লেবার পেইন প্রাকৃতিক উপায়ে শুরুর প্রস্তুতি নিতে পারেন।  এই সময়ে মায়েরা শরীর ধীরে ধীরে লেবারের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। 

অনেকের সময়  তলপেট শক্ত শক্ত হয়ে ব্রাক্সটন হিক্স ঘনঘন হতে থাকে ব্যাকপেইন সহ নানান রকম অস্বস্তি অবস্থা হতে পারে।  প্রাকৃতিকভাবে লেবার পেইন উঠানোর জন্য একজন মা নিজের মতো চেষ্টা করতে হবে , কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, সবকিছু যে কাজে দিবে তা নাও হতে পারে। তবে মেডিক্যাল হস্তক্ষেপ এড়াতে নিজস্ব কিছু চেষ্টা অবশ্যই থাকা উচিত লেবার উঠানোর জন্য। কিছু পদক্ষেপ আছে যেগুলো নিলে সহজে মায়েদের লেবর পেইন উঠানো যায়। তাহলে চলুন সে পদক্ষেপগুলো জেনে নেয়া যাক। 

১. ব্যায়াম : সুস্থ প্রেগন্যান্সীর ও একটা সুস্থ প্রাণ কে পৃথিবীতে আনতে গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই প্রতিদিন কিছু ব্যায়ামে অভ্যস্ত হওয়া উচিত। বিশেষ করে প্রেগন্যান্সী শেষের দিকে এসে ডেলিভারি পেইন প্রাকৃতিকভাবে শুরু করার উপায় হিসেবে ব্যায়াম করা আবশ্যক হয়ে যায়। কম ঝুঁকির প্রেগন্যান্ট মায়েদের এই সময় সাধারণ  প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট করে হাঁটা চলাচল করা উচিত। হাঁটা পেলভিসের ইনলেটকে খুলে দেয় ও মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হাঁটা চমৎকার একটা কার্যকরী ব্যায়াম।

২. খাবার :  কিছু খাবার আছে প্রাকৃতিকভাবে প্রসব ব্যাথা শুরু করতে নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। মশলাদার খাবার গুলো পরিপাকতন্ত্রে প্রতিক্রিয়া ঘটিয়ে জরায়ুতে কন্ট্রাকশন শুরু করতে পারে । যদিও এমন কোন ধরাবাঁধা প্রমাণ নেই, তারপরও অনেক মায়েরা মশলাদার খাবার খেয়ে দেখেন প্রসব বেদনা শুরু করত আবার  আনারসে অবস্থিত ব্রোমেলিন এনজাইম জরায়ু মুখকে নরম করে প্রসব বেদনা শুরু করতে পারে বলে প্রচলিত আছে বলে জানা যায়।


তবে অধিক পরিমাণে খাওয়া হলে তা থেকে হার্টবার্ন এমনকি ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থেকে থাকে । ইভিনিং ও প্রিমরোজ ওয়েল সার্ভিক্সকে নরম ও ডাইলেট করে ব্যাথা শুরু করতে পারে। লাল রাস্পবেরীর পাতার চা, দারুচিনি পাতার চা, রোজমেরী পাতার চা, কালো কোহশ নামক হার্বস ইত্যাদি প্রসব বা লেবার পেইন উঠতে সাহায্য করে থাকে।  

লেবার পেইন এর লক্ষন : 

আমাদের মধ্যে আনেকেই আছে যারা লেবার পেইন সম্পর্কে জানি না গর্ভবতী মেয়েদের প্রেগন্যান্সীর শেষের সপ্তায় লেবার পেইন এর কিছু লক্ষণ দেখা যায় আমরা সেই লক্ষণসমূহকে সাধারণ কোন কিছু ভেবে ভুল করে থাকি। যার স্বরুপ অনেক অংশ দেখা যায় মায়ের পেটের মধ্যে বাচ্চার মৃত্যু হয়ে থাকে যা খুব একটু মর্মান্তিক ঘটনা। তাই যারা লেবার পেনের লক্ষণ সম্বন্ধে কোন ধারণা নেই বা জানেন না তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেল। তাহলে চলুন লেবার পেইন লক্ষণ সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। 

ডেলিভারির সময় হয়ে গেলে সাধারণত একটা ব্যাথা অনুভব হয় মায়ের শরীরে এই ব্যথাটি কোমড় থেকে তল পেটে চলে আসে তার পরে পায়ের দিকে চলে যায়।এমন করে ব্যথাটা আস্তে বাড়তে থাকে। অনেকের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে এই ব্যাথাটি  শুরু হতে দেরি হতে পারে। আবান অনেকেরই এই ব্যথাটি  তীব্র না হয় আস্তে আস্তে হতে পারে। তারপর ১০ মিনিটের মধ্যে ২ বার কি ৩ বার এই ব্যাথা টি উঠতে পারে। এগুলো হলো লেবার পেন এর লক্ষণ। আপনার যদি প্রেগনেন্সি শেষের সপ্তাহে ডেলিভারির আগে শরীরে এমন কোন ধরনের ব্যথা অনুভব করেন তাহলে অতি দ্রুত আপনার নিকটবর্তী হাসপাতালে বা কমিউনিটি ক্লিনিকে যোগাযোগ করতে পারেন। এতে আপনি এবং আপনার সস্তা দুজনেরই সুস্থ থাকবেন। 

লেবার পেইন উঠানারো ওষধ : 

এমন আনেক সময় আছে যখন প্রাকৃতিক ভাবে ডেলিভারি পেইন হচ্ছে না তখন আনেক সময় মা কে বিভিন্ন ধরনের ওষধ দিয়ে থাকেন যাতে লেবার পেইন টা তাড়াতাড়ি শুরু হয়। সাধারণ নরমাল ডেলিভারি সময় এমন ওষধ গুলো বেশি দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা আনেকেই জানি যা যে লেবার পেইন উঠানোর জন্য আমরা যে সব ওষধ ব্যাবহার করে থাকি তা মা ও তার সন্তানের জন্য কতো না ক্ষতি কর হয়ে থাকে।

যারা বাড়িতে আভিঙ্গ কেও নরমাল ডেলিভারিতে করে থাকে তারা আনেক সময় এমন ওষধ ব্যাবহার করে থাকে কিন্তু তারা তো আর ডাক্তার না তাও ওষধ কম বেশি হলে রুগি মারাও যেতে পারে তাই পরামর্শ হলো যদি ডেলিভারিতে সময় বা পিরিয়ডের শেষ সপ্তাহে ডাক্তার দের সাথে আলোচনা করে কোনো হাসপাতালে গিয়ে আভিঙ্গ ডাক্তার দারা সুস্থ ভাবে লেবার পেইন তুলে মা ও সন্তান কে সুস্থ রাখা আমাদের কর্তব্য। 

লেবার পেইন উঠানোর দোয়া : 

 আমাদের ইসলাম ধর্ম এমন একটি ধর্ম যেখানে আমাদের শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক সব বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা আছে। তেমনি গর্ভবতি মেয়ে দের লেবার পেইন উঠানোর দোয়াও রয়েছে। যা পাঠ করলে লেপার পেইন উঠে থাকে। তাহলে চলুন দোয়া টি জেনে নেওয়া যাক প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার দোয়া।আমারা যদি যেকোনো বিপদে পড়ি তখন  দোয়া ইঊনুস পড়লে আল্লাহ তালা আমাদের বিপদ থেকে  রহমত করে থাকেন।


আরো পড়ুনঃ ডেলিভারি পেইন উঠানো উপায়


তা বাদে আপনি এস্তেকফার পাঠ করতে  পারেন।তাহলে আপনার প্রসব বেদনা শুরু হওয়া কিংবা যেকোনো বিপদ থেকে রেহায় পাবেন ইনশাআল্লাহ ।আশা করি বুঝতে পেরেছেন প্রসব বেদনা শুরু হওয়ার দোয়া।আপনি শুধু আল্লাহর ওপরে বিশ্বাস রাখবেন আর মনে মনে এ দোয়া গুলো পাঠ করতে থাকবেন। 

শেষ কথা – লেবার পেইন উঠানার পদ্ধতি সমূহ 

লেবরর পেইন উঠানরো জন্য আনেক পদ্ধতি আছে সে বিষয় আমরা আমাদের আর্টিকেল বিস্তারিত আলোচনা করছি আপনি যদি আমাদের আর্টিকেল টি পুরোপুরি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চিয় বুঝতে পাড়বেন যে কি ভাবে লেবার পেইন উঠানো যায় । আশা করি এই আর্টিকেল টি পরে আপনারা উপকৃত হয়েছেন। আর্টিকেল টি পড়ে যদি আপনারা উপকৃত হন তাহলে আমাদের লেখা সার্ধক হবে।

Leave a Comment