সন্তানের হক নষ্ট করার শাস্তি কি

প্রিয় পাঠক আপনাদের অনেকের জানা নেই সন্তানের হক নষ্ট করার শাস্তি কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত। তাই আপনার ও যদি এমন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমার আজকের এই আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ুন। কেননা আমার আজকের এই আর্টিকেল এর মূল বিষয় হলো সন্তানের হক নষ্ট করার শাস্তি নিয়ে আমার এই বিস্তারিত আলোচনা। তো আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট না করে চলুন শুরু করা যাক সন্তানের হক নষ্ট করার শাস্তি কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

সন্তানের হক নষ্ট করার শাস্তি কি

আমার এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি আরো ভালো করে জানতে পারবেন সন্তানের হক নষ্ট করার শাস্তি কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত।

পেজ সূচিপত্রঃ সন্তানের হক নষ্ট করার শাস্তি কি

  • সন্তানের প্রতি মা বাবার দায়িত্ব ও কর্তব্য
  • পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য 
  • অন্যের হক নষ্টকারীর শাস্তি
  • শেষ কথা সন্তানের হক নষ্ট করার শাস্তি কি

সন্তানের প্রতি মা বাবার দায়িত্ব ও কর্তব্য

সন্তান হলো আল্লাহর দেওয়া এক শ্রেষ্ট নেওয়া মত প্রত্যেক মা বাবার জন্য। প্রত্যেক মা বাবার জন্য সন্তান হলো তার চোখের মনি এবং হৃদয়ের প্রশান্তির কারণ। তবে সন্তানকে আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রত্যেক পিতা-মাতার সচেতন হওয়া উচিত। আপনার সন্তানকে লালন পালন করার জন্য ইসলামে যেসব শিষ্টাচার এর উপর লক্ষ্য রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যেও দশটি গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার তুলে ধরা হলোঃ

  1. সন্তান জন্মের পরপরই মৃদু সরে ডান কানে আজান এবং বাম কানে একামত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।(তিরমিজিঃ ১৫১৪)
  2. সন্তান জন্মের পর আকিকা দিতে হবে। ছেলে সন্তান হলে ২ টি এবং মেয়ে সন্তান হলে ১ টি ছাগল আকিকা দিতে হবে।(তিরমিজিঃ ১৫১৩)এরপর সুন্দর একটি নাম রাখা। নামটি যেন ইসলামী হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা।(আবু দাউদঃ ৪৯৪৮) 
  3. এরপর আপনার সন্তানকে দুই বছর বুকের দুধ পান করানো।(সূরা লুকমানঃ ১৪)
  4. কন্যা সন্তান হলে ব্যয় বহনে অধিক গুরুত্ব দেওয়া। সব সময় যেন পর্দা শীল হয়ে চলে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। ( মুসলিমঃ ২৬৩১)
  5. আপনার সন্তান জন্মের পর তার লালন পালন এবং তার সমস্ত ব্যায় ভার বহণ করতে হবে। (তিরমিজিঃ ১৭০৫)আপনার সন্তান কে সঠিক ভাবে ধর্ম শেখানাে।(ইবনে মাজাহঃ ৩৬৭১)
  6. আপনার সব সন্তানের প্রতি সমতা ও ন্যয় বিচার বজায় রাখতে হবে।(বুখারিঃ ২৫৮৭)
  7. আপনার সন্তানের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন এবং আদর করুন। একদিন রাসুল (সা.) নাতি হাসান এবং হোসাইন (রা.) কে চুমু দিলেন। সেখানে আকবা বিন হাবিস (রা.) উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন আমার দশ জন সন্তান আছে। কিন্তু আমি কখনো কাউকে চুমু দেইনি। এই কথা শুনে রাসুল (সা.) তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন ,‘যে ব্যাক্তি কাউকে দয়া করে না, আল্লাহ তায়ালা ও তাকে দয়া করেন না’।(বুখারিঃ ৫৯৯৭)
  8. আপনার সন্তান বিয়ের উপযুক্ত হওয়া মাত্র বিয়ে দিয়ে দিন। 
আপনার সন্তানদের লালন পালন এ কোনো ধরনের অবহেলা করবেন না।

পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

আমাদের জন্ম দাতা হলো পিতা মাতা। আমাদের পৃথিবীতে একমাত্র আপন বলতে তারাই সব। তারা হলো আল্লাহর দেওয়া আমাদের শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। প্রিয় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত। আর কোন সন্তান যদি এই বেহেশত অর্জন করতে চাই তাহলে অবশ্যই তার পিতা-মাতার প্রতি সুন্দর ব্যবহার করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, পিতা মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ যদি তোমার জীবন যাপন এ বার্ধক্য উপনীত হয়,, তবে তাদের কে ‘উহ’ শব্দটি ও বলনা, তাদের ধমক দিওনা, এবং তাদের সঙ্গে শিষ্টাচার পূর্ণ কথা বল। তাদেরকে ভালোবাসার সঙ্গে এবং মাথা নত করে বল, হে প্রভু তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেন যারা আমাকে শৈশবকালে লালন পালন করেছেন (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৩ ও ২৪)।

প্রত্যেক সন্তান যদি তার পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ করেন তাহলে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করবেন। প্রত্যেক সন্তানের পিতা মাতার প্রতি কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এইগুলো নিচে দেওয়া হলঃ

  • পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করা।
  • সুন্দর ভাবে কথা বলা।
  • যেকোনো বিষয়ে তাদের পরামর্শ নেওয়া।
  • তাদের সুখ শান্তির জন্য আমাদের ধন সম্পদ ব্যয় করা।
  • তাদের সঙ্গে কখনো খারাপ ভাষায় কথা না বলা।
  • পিতা মাতা মারা গেলে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাতের দোয়া করা। তাদের ঋণ  পরিশোধ করা ও তাদেরও ওসিয়ত গুলো পূর্ণ করা।

অন্যের হক নষ্টকারীর শাস্তি

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন সম্পদের কিয়দংশ জেনে শুনে অন্যায় ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্য তা বিচারকের কাছে পেশ করো না।(সূরা আল বাকারা, আয়াত ১১৮)

আরো পড়ুনঃ ভিগোজেল মালিশ করার নিয়ম

কারো হক বা অধিকার নষ্ট করা, ধ্বংস করা, ইত্যাদি কে হকতলফী বলা হয়। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সমাজ জাতির রাষ্ট্র এমনকি আন্তর্জাতিক অধিকার হরণ এর অন্ত নেই। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে মুসলমানের হক অধিকার করেছে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের আগুন তার জন্য অবধারিত করে রেখেছেন এবং জান্নাত তার জন্য হারাম করেছেন। এ ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দরবারে আরশ করে, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) যদি সামান্য বস্তু হয়? রাসূল (সা.) বললেন, মেসওয়াকের কাঠি সমান হলেও অর্থাৎ অতি সামান্য হলেও এই শাস্তি নির্ধারিত করা আছে।

শেষ কথা:সন্তানের হক নষ্ট করার শাস্তি কি

প্রিয় পাঠক আপনারা এতক্ষণ পড়ছিলেন সন্তানের হক নষ্ট করার শাস্তি কি সম্পর্কে বিস্তারিত। আশা করি আমার আজকের এই পোষ্টটি পড়ে আপনার উপকারে আসবে। আমার এই ওয়েব সাইট এ আপনাদের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য নিয়ে বাংলা আর্টিকেল লিখে আসছি।

আরো পড়ুনঃ বেটামেসন ক্রিম এর “অপকারিতা”

আমার এই পোষ্টটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করতে পারেন। আর যদি নতুন কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে চান তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এতক্ষণ আমার এই পোষ্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবান।

Leave a Comment