টিউমারের হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা

প্রিয় পাঠক আপনাদের অনেকের জানা নেই টিউমারের হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত। তাই আপনার ও যদি এমন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমার আজকের এই আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ুন। কেননা আমার আজকের এই আর্টিকেল এর মূল বিষয় হলো টিউমারের হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। তো আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট না করে চলুন শুরু করা যাক কানে শো শো শব্দের হোমিও চিকিৎসা সম্পর্কে।

টিউমারের হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা

আমার এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি আরো ভালো করে জানতে পারবেন টিউমারের হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা সম্পর্কে। 

পেজ সূচিপত্রঃ টিউমারের হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা

  • টিউমার চেনার উপায়
  • টিউমার চিকিৎসায় হোমিও ঔষধ
    মাথায় টিউমারের লক্ষণ

  • মাথায় টিউমারের চিকিৎসা
  • শেষ কথা-টিউমারের হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা
টিউমার চেনার উপায়
অনেকের শরীরে দেখা যায় যে ছোট ছোট মাংসপিণ্ড হয়ে আছে এটাই হল টিউমার। তবে অনেকেই প্রথমদিকে এটাকে পাত্তা দিতে চায় না টিউমার ব্যাথা হীন হওয়ার কারণে কেউ সেভাবে খেয়াল করে না। তবে সবার উচিত শরীরে কোথাও মাংসপিণ্ড বা ব্যথা হলে তার যথাযথ চিকিৎসা করা।
এক ধরনের টিউমার আছে যাকে বলা হয় বিনাইন টিউমার। এই টিউমার শরীরের অন্য কোন অংশে প্রভাবিত করে না। তবে এ টিউমারকে সাধারণ ভাবে ধরলে এটা বিপদজনক হতে পারে। বিনাইন টিউমার দুই ধরনের। এর মধ্যে এর ধরনের টিউমার হল শরীরের এর জায়গায় হয়ে থাকে সেটা হলো বিনাইন টিউমার। এই টিউমার তেমন ক্ষতিকার নয়। তবে ম্যালিগমেন্ট টিউমার অনেক ক্ষতিকারক। এই টিউমারকে আরেকভাবে বলা হয় ক্যানসারাস টিউমার। এই টিউমার ভেতরে থাকা অস্বাভাবিক ওষুধগুলো রক্তপাত কিংবা লিম্ফ নামক কিছু রাসায়নিক পদার্থ শরীরের অন্য অংশে জমা হয়ে, অন্য অংশের ক্ষতি করে।

টিউমার চিকিৎসায় হোমিও ঔষধ
টিউমার সমস্যা নিরাময়ে হোমিও ঔষধ অত্যন্ত কার্যকরী। বেশির ভাগ মানুষ টিউমারের মত রোগে আক্রান্ত হলে এই হোমিও ঔষধ সেবন করে থাকেন। টিউমারের কয়েকটি প্রধান হোমিও ওষুধের নাম উল্লেখ করা হলো। এই ঔষধ গুলো ডাক্তারের পরামর্শ মতাবে সেবন করতে পারেন। ঔষধ গুলোর নাম নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
  1. Thoja
  2. Calcarea Phos
  3. Phytolacca
  4. Baryta lod
  5. Calcarea Carb
  6. Calcarea lod
  7. Baryta lod
  8. Baryta Mur
  9. Calcarea Floor
  10. Silicea
  11. Conuim
  12. Ruta
মূলত এই সবগুলো ঔষধি টিউমারের ঔষধ। এই প্রত্যেক ঔষধ টিউমারের আকার আকৃতি এবং প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে সেবনের নির্দেশ প্রদান করা হয়। তাই আপনি যদি হোমিও ঔষধ সেবন করতে চান তাহলে ভালো হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক উপরের ঔষধ গুলো সেবন করুন।


মাথায় টিউমারের লক্ষণ
শরীরের যেকোন কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বলা হয় টিউমার। এই ব্রেণ টিউমার হল মাথার মধ্যে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া। যখন এই টিউমার ব্রেন এ হয়ে থাকে তখন ব্রেনের ভিতরে চাপ পড়ে এবং ব্রেন কে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
 আপনার মাথায় যদি এই লক্ষণ দেখা যায় তাহলে বুঝে নিতে হবে যে আপনার মাথায় টিউমার হয়েছে।
নিচে এই মাথার টিউমার বা ব্রেন টিউমারের লক্ষণ দেওয়া হল।
  • ব্রেণ টিউমারের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হলো মাথা ব্যাথা ও চোখে ঝাপসা দেখা। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নাই মাথা ব্যাথা হলেই এটা টিউমার না।
  • ব্রেন টিউমারের জন্য আপনার যে মাথা ব্যাথা হয়। এই ব্যাথা সাধারণত খুব ভোর এ হয়ে থাকে এর সাথে খিঁচুনি ও হতে পারে। এই খিঁচুনি সাধারণত হাত পা বা অন্য কোনো স্থান থেকে শুরু করে আপনার শরীরের সমস্ত অংশে ছড়িয়ে পরে। তবে এই মাথা ব্যাথা খুব সহজে যেতে চায় না।
  • মটর এরিয়ায় টিউমার হলে যেদিকে টিউমার হয় ঠিক তার উল্টো দিকে প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। 
  • ব্রেনের সামনের অংশে বা ফ্রান্টাল লোবে টিউমার হলে রোগীর স্মৃতিশক্তি কমে যায়। যার ফলে রোগী ও অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।
  • মস্তিষ্কে ভেতরে পিটুইটারি গ্রান্ডে টিউমার হলে রোগীর দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। রোগী যদি সামনের অংশ ভালো ভাবে দেখতে পেলে ও আশে পাশে ভালো ভাবে দেখতে পান না। এক কথায় অন্ধ হয়ে যায়।
  • যদি রোগীর মস্তিষ্কের নিচের খলির প্রকোষ্ঠ টিউমার হয় তবে সেই ক্ষেত্রে রোগী হাটতে গেলে পড়ে যাবেন আর নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে। কানে ঠিক মতো শুনতে পারেন না এবং কথা বলার সময় বাধা প্রাপ্ত হয়।
  • টিউমার অত্যন্ত বেশি বড় হয়ে গেলে রোগীর হঠাৎ করে মৃত্যু ও হতে পারে।
মাথায় টিউমারের চিকিৎসা
সাধারণত ব্রেন টিউমার হলে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞগণ অপারেশন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ব্রেন টিউমারের টিউমারটি হয়ে থাকে মস্তিষ্কে। তবে আপনি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবন করলে মস্তিষ্কের মত জটিল অংশে অপারেশন করা লাগবে না। তবে অবশ্যই হোমিওপ্যাথিক এর অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করবেন। ব্রেন বা মস্তিষ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সেহেতু চিকিৎসক নির্বাচনের সময় অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। তবে এই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্রেন টিউমারের মত জটিল রোগকে ও অপারেশন না করে সারিয়ে দিতে পারে। 
ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় রোগীকে মায়াজমের দিকে খেয়াল রেখে মেডোরিনাম, সিফিলিয়াম, থুজা, টিউবার কুলিনাম, সোরিনাম, সালফার, ক্যাল কেরিয়া, কার্ব, বেলেডোনা, কষ্টিকাম ইত্যাদি ঔষধ ব্যবহার করা হয়। তবে মাথায় রাখতে হবে কোন চিকিৎসকের ব্রেন টিউমারের মত জটিল রোগের অভিজ্ঞতা না থাকলে এই চিকিৎসা না করা উত্তম। 

শেষ কথা:টিউমারের হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা

প্রিয় পাঠক আপনারা এতক্ষণ পড়ছিলেন টিউমারের হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত। আশা করি আমার আজকের এই পোষ্টটি পড়ে আপনার উপকারে আসবে। আমার এই ওয়েব সাইট এ আপনাদের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য নিয়ে বাংলা আর্টিকেল লিখে আসছি। আমার এই পোষ্টটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করতে পারেন। আর যদি নতুন কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে চান তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এতক্ষণ আমার এই পোষ্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবান।

Leave a Comment