ওয়ারি সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায়

প্রিয় পাঠক আপনাদের অনেকের জানা নেই ওয়ারি সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায় সেই সম্পর্কে বিস্তারিত। তাই আপনার ও যদি এমন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমার আজকের এই আর্টিকেলটি মন দিয়ে পড়ুন। কেননা আমার আজকের এই আর্টিকেল এর মূল বিষয় হলো ওয়ারি সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায় নিয়ে আমার এই বিস্তারিত আলোচনা। তো আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট না করে চলুন শুরু করা যাক ওয়ারি সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায় সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

ওয়ারি সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায়

আমার এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি আরো ভালো করে জানতে পারবেন ওয়ারি সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায় সেই সম্পর্কে বিস্তারিত।

পেজ সূচিপত্রঃ ওয়ারি সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায়

  • ওভারিয়ান সিস্ট রোগের কারণ
  • সিস্ট হওয়ার লক্ষণ
  • সিস্ট এর ঘরোয়া চিকিৎসা
  • কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
  • শেষ কথা ওয়ারি সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায়
ওভারিয়ান সিস্ট রোগের কারণ
এটা ছেলে মেয়েদের ও কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকাল এ এই সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এছাড়া ও দেরিতে বিয়ে এবং দেরিতে সন্তান নেওয়ার জন্য ও এই সমস্যা হয়। আবার আপনার অনিয়মিত সেক্স লাইফ , হরমোন সমস্যা এছাড়া ও অল্প বয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার জন্য সিস্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে নারীরা অনেক ধরনের সিস্টে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যত্তম হলোঃ সিস্ট এডোনোমা, ডারময়েড সিস্ট, অ্যান্ডমেট্রিওটিক সিস্ট, পলিসিস্টিক (পিসিওএস) সিস্ট এবং ফাংশনাল সিস্ট। আবার একাধিক সিস্টকে একত্রে পলিসিস্ট বলা হয়। তবে এর মধ্যে অন্যত্তম ওভারি বা ডিম্বাশয় ফিমেল রিপ্রোডাক্টিভ অঙ্গ গুলো।
আবার কিছু কিছু সিস্ট আছে যা ক্যান্সারিয়াস (ম্যালিগন্যান্ট) হয়। এ রোগ সাধারণত কিছু লক্ষনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আপনাকে অবশ্যই এই রোগ এর প্রথম দিক থেকে চিকিৎসা করা শুরু করতে হবে। তাহলে এই রোগ এর সমাধান করা সম্ভব।
ডিম্বাশয় সিস্ট থাকলে এই ডিম্বানু বের হওয়ার সময় সমস্যা হয়। এর ফলে মাতৃত্বের গর্ভধারণের অসুবিধা হয়। তবে এই সিস্ট এর চিকিৎসা ও রয়েছে। সিস্ট পাক খেয়ে ঘুরে (টরশন) না গেলে গর্ভাবস্থায় সিস্টকে কিছু করা হয় না। এই সিস্টকে ১৪ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভাবস্থায় সার্জারি করা হয় তবে যদি ১৪ থেকে ২০ সপ্তাহ অতিক্রম হয়ে যায় তখন আর সার্জারি চলে না। 
সিস্ট হওয়ার লক্ষণ
সিস্ট রোগের কিছু লক্ষণ রয়েছে। এই লক্ষণগুলি নিচে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হল ঃ
  • মুত্র ত্যাগ বেড়ে যাওয়া।
  • অনিয়মিত মাসিক চক্র, হয় আগে অথবা পরে
  • পেট ফাঁপা এবং পেটে ফোলা ভাব।।
  • পেলভিস অঞ্চলে ব্যথা যা সময় সময় কম বেশি হতে পারে ।
  • মল ত্যাগে ব্যথা বা অসুবিধা বাড়তে থাকে।
  • আবার তলপেট ব্যথা বা অস্বস্তি।
  • ফার্টিলিটি জনিত সমস্যা যেমন গর্ভধারণ করা বা শিশু জন্মের হওয়া।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই লক্ষণ গুলো যদি সঠিক ভাবে প্রকাশ না পায়। তাহলে এই রোগটি অনেক জটিলতায় পরিণত হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে ওভারিয়ান সিস্টের কারণে কার্যকলাপের সবচেয়ে কম প্রভাবিত হয়।
সিস্ট এর ঘরোয়া চিকিৎসা
শরীরে যে কোন স্থানে সিস্ট হতে পারে। সিস্ট ত্বকের নিচে মসৃণ গোলাকার এবং শক্ত গঠনের হয়। কখনো কখনো সিস্ট ব্যাথা মুক্ত হয় তবে এটা খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। কখনো কখনো এই সিস্ট ফেটে ও যায়। সিস্ট যদি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমন ঃলিভার, কিডনি এবং অগ্নাশয় হয়। এই সিস্ট ঘরোয়া উপায় এ প্রতিকার করা সম্ভব। ওয়ারী সিস্ট দূর করার ঘরোয়া কিছু উপায় বিস্তারিত দেওয়া হল ঃ
ওজন কমানো ঃ
আপনাকে সর্বপ্রথম ওজন কমাতে হবে। একজন মহিলার ওজন বেশি হলে এটা ওজন কমানোর জন্য খুবই উপকারী। এর জন্য তার শরীরে হরমোন গুলোকে ভালো ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। সিস্ট এর বিকাশ রোধ করা যায়। আবার প্রান্তের লক্ষণ গুলোকে ভালো ভাবে উপশম করে। কিন্তু পলিসিস্টক ওভারিয়ান সিনড্রমে ওজন কমানো খুবই কঠিন। কিন্তু হতাশ হওয়া যাবে না কারণ এতে ওজন কমাতে অনেক সময় লাগে।
মালিশ করা ঃ
ডিম্বাশয় সিস্টার ব্যথা আশেপাশে পেশী গুলকে টান দিয়ে ধরে রাখে। নিচের পিঠ উড়ু নিস্তব্ধ এবং মালিশ করার টানটান বেশি আলগা করতে হবে এবং এটা ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই ওভারিয়ান সিস্ট হলে শরীরে দুই থেকে তিনবার হালকা ভাবে মালিশ করতে হবে। তাহলে কিছুটা উন্নতি পাওয়া যাবে
হারবাল উপায় ঃ
বেশ কিছু হারবাল জিনিস এন্ডোক্রিন সিস্টেমকে শরীরে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যা আপনার হরমোন কে সঠিক মাত্রায় বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং অভিশন নিয়মিত পড়লে ও প্রজনন রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। ডান্ডিডলিওন মিল্ক ভিসল ইস্টোজেল এর সঠিক মাত্রা বজায় রাখে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
যে সমস্ত মহিলারা সন্দেহ ভুগছেন যে তাদের ডিম্বাশয়ে সিস্ট রয়েছে। সেই সকল মহিলাদের ঘরোয়া চিকিৎসার আগে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। একটি ডিম্বাশয় তারা শ্রেষ্ঠ গুরুতর ব্যথা নির্দেশ করতে পারে যে এটি ফেটে গেছে। আপনার এই সমস্যা গুলো দেখা দিলে আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন। নিচে এটা দেওয়া হলঃ
  • বমি সহকারে ব্যথা হলে।
  • হঠাৎ পেটে ব্যথা করা।
  • জ্বর সহ ব্যথা।
  • পেলভিক অংশে ব্যথা।
  • শরীরের হঠাৎ শক বা আঘাতের লক্ষণ দেখা দেওয়া।
আপনার যদি এই সমস্যা গুলো হয় তাহলে আপনি সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যাবেন।
শেষ কথা-ওয়ারি সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায়
প্রিয় পাঠক আপনারা এতক্ষণ পড়ছিলেন ওয়ারি সিস্ট দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত। আশা করি আমার আজকের এই পোষ্টটি পড়ে আপনার উপকারে আসবে। আমার এই ওয়েব সাইট এ আপনাদের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য নিয়ে বাংলা আর্টিকেল লিখে আসছি।
আমার এই পোষ্টটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে আপনার বন্ধুর কাছে শেয়ার করতে পারেন। আর যদি নতুন কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে চান তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এতক্ষণ আমার এই পোষ্টটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবান।

Leave a Comment